প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হচ্ছে নতুন নীতিমালা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৫৭
একনেক সভা শেষে ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। ছবি: পিআইডি

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহৃত বিদ্যমান ‘রেট শিডিউল’ পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো তৈরির কাজও চলছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।

সভায় খুলনার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা সংযুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবায়নের সময় এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আগের বৈঠকে খুলনার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন মঙ্গলবার উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার চলমান এবং নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস (রি-স্কোপিং) করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো প্রকল্পের পরিধি কমানো বা বাড়ানো, নতুন উপাদান সংযোজন কিংবা অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পগুলো সাজাতে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি প্রকল্প ধারণাপত্র থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি প্রণয়ন, একনেকের অনুমোদন, প্রশাসনিক আদেশ, দরপত্র ও কার্যাদেশ পর্যন্ত যেতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হতেও তিন থেকে চার বছর পার হয়ে যায়। এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল অর্জন ব্যাহত হয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া সময়োপযোগী ও যৌক্তিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই বিষয়ে আইএমইডি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের নতুন নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতের সব উন্নয়ন প্রকল্পে অনুসরণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার পৃথক রেট শিডিউল ব্যবহারের কারণে ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় সেটিও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আগে থেকেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে এবং শিগগির নতুন রেট শিডিউলের সুপারিশ দেবে। নতুন কাঠামোয় সাধারণ কাজের জন্য একটি অভিন্ন হার এবং বিশেষায়িত কাজের জন্য পৃথক হার নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন রেট শিডিউল কার্যকর হলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত হবে এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা যাবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত