কর অঞ্চল ৯-এর ৮৫ শতাংশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নজরদারির বাইরে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ২১: ০৭
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ছবি: সংগৃহীত

কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা কর অঞ্চল-৯-এর (উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান) কর মনিটরিং কার্যক্রমে ধীরগতি চলছে। কর অঞ্চলটির আওতাধীন বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখনো নিয়মিত নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে। একই সঙ্গে, উদঘাটিত অকর্তিত করের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো আদায় করা সম্ভব হয়নি।

গত ৫ জুলাই উত্তরাস্থিত কর কমিশনারের কার্যালয় (কর অঞ্চল-৯, ঢাকা) থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো জুন মাসের দ্বিতীয় পক্ষের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

৮৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই নজরদারির বাইরে
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কর অঞ্চল-৯-এর অধিক্ষেত্রভুক্ত ‘নির্দিষ্ট ব্যক্তি’ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মোট সংখ্যা ৭৬৮টি। কিন্তু জুন মাসের দ্বিতীয় পক্ষে এর মধ্যে মাত্র ১১৪টি প্রতিষ্ঠানকে মনিটরিং করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৮৫ দশমিক ১৫ শতাংশ (৬৫৪টি) প্রতিষ্ঠানই এই সময়ে মনিটরিংয়ের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

নজরদারির এই সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি কর আদায়েও ঘাটতি দেখা গেছে। এই খাতে এ পর্যন্ত মোট ২৯ দশমিক ০৩ কোটি টাকার অকর্তিত কর উদঘাটিত হলেও আদায় করা সম্ভব হয়েছে ২১ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা। ফলে এখনো ৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকার অকর্তিত কর অনাদায়ী রয়ে গেছে।

১৪৭ ধারার কার্যক্রমে শ্লথগতি, বড় অংশই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে
আয়কর আইনের ১৪৭ ধারার আওতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ৫ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার বিশিষ্ট মোট ৯৫টি বৃহৎ ‘নির্দিষ্ট ব্যক্তি’ বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হলেও এ খাতে কার্যক্রমের গতি অত্যন্ত শ্লথ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কর ফাঁকি রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধারার আওতায় আলোচ্য মাসে মাত্র ১টি নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত মোট ক্রমযোজিত কার্যক্রমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬টিতে। অর্থাৎ, চিহ্নিত ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো প্রায় ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

১৪৭ ধারার আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৮ দশমিক ০৪ কোটি টাকার অকর্তিত কর উদঘাটিত হলেও আদায় হয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা। ফলে এই খাত থেকেও ১ দশমিক ১৬ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হওয়া বাকি রয়ে গেছে।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও মাঠপর্যায়ে তদারকির এই বড় ঘাটতি এবং বকেয়া আদায়ের ধীরগতির কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

এছাড়াও তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুত এর সুরাহা করা হবে। বিভিন্ন কর অঞ্চলে ধীরগতির বিষয়েও আমরা তাদের বারবার বলেছি। আশা করি যত টাকা অনাদায়ী আছে, সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে তুলে ফেলবে।

বিষয়:

করকরদাতা
Ad 300x250

সম্পর্কিত