উদ্ধারকর্মীদের রানা প্লাজা

এয়ার ফ্রেশনারে লাশের গন্ধ, হাহাকার আর আমৃত্যু ট্রমা

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৩৭
স্ট্রিম গ্রাফিক

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় সাধারণ একটি দিন হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়ে যায় একটি বিভীষিকাময় দিন। যে দিনের স্মরণে আজও কেঁপে ওঠে হৃদয়, চোখ দিয়ে পড়ে পানি। এখনো নাকে লাগে গলিত ও অর্ধগলিত লাশের দুর্গন্ধ। যে গন্ধ দূর করতে সে সময় হাজারো এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করেছিল রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও মৃত মানুষ উদ্ধার করা স্বেচ্ছাসেবকেরা। আজও তাঁরা এই গন্ধ বয়ে বেড়াচ্ছেন।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পর সে সময়ের গল্প শুনতে সেই সময়ের ৩ জন স্বেচ্ছাসেবকের মুখোমুখি হয় ঢাকা স্ট্রিম। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী রায়হান তাহরাত লিয়ন এবং রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মী আল-জাহিদ। তাঁরা প্রত্যেকেই রানা প্লাজার সেই ট্র্যাজেডির চাক্ষুষ সাক্ষী। তাঁদের অভিজ্ঞতার গল্পে ফুটে ওঠে এই ভয়াবহ চিত্র—যে চিত্রের ট্রমা এখনো তাঁরা বয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রথম চিত্র ছিল ধ্বংসস্তূপের হাহাকার

রানা প্লাজার ভবন ধসের ঘটনা শোনার পর আশরাফুল আলম সোহেল, রায়হান তাহরাত লিয়ন ও আল-জাহিদ আলাদা স্থান থেকে রানা প্লাজার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কেউ ওই দুপুরে, কেউ আবার রাতে। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের ভাষায় ফুটে ওঠে ধ্বংসস্তূপের হাহাকারের চিত্র। তাঁরা জানান, শুরুতেই গিয়েই তাঁরা দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপ ঘিরে হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

আশরাফুল আলম সোহেল তাঁর ভাষায় বলেন, ‘আমি রাতের মধ্যে একটি টিম গঠন করে পরের দিন সকালে সেখানে উপস্থিত হই। সেখানে উপস্থিত হয়েই দেখতে পারি হাজার হাজার মানুষ একটা বিশাল ধ্বংসস্তূপকে ঘিরে রয়েছে। কিন্তু এই ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারের তেমন কোনো সক্রিয়তা নেই। একটা হতবিহ্বল অবস্থায় আমাদের কাজ শুরু করতে হয়।’

রায়হান তাহরাত লিয়নও দেখতে পান একই চিত্র। তবে তিনি এ চিত্র পূর্বে জানার কারণে অনেক সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাসায় টিভিতে আমি প্রথম দেখতে পাই যে সাভারে রানা প্লাজা নামে একটা বিল্ডিং ধসে গেছে। তার কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারি ওখানে আসলে বেশ কিছু মানুষ আটকে পড়েছে, যারা বের হতে পারতেছে না। তখন আমরা একটা টিম পাঠিয়ে দিই, আর একটা টিম যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু আমাদের যে টিম আগে যায়, তাঁরা জানায় যে ওখানে শুধু মানুষ চাপা পড়ে নাই, অনেকে জীবিত আটকে আছে এবং যেকোনো মূল্যে তাদের বের করতে হবে। সেই প্রস্তুতি হিসেবে আমরা ঢাকা থেকে হ্যাকসো ব্লেড, হাতুড়ি, কোদাল, লাইট, টর্চলাইট ও হেলমেট নিয়ে যাই।’

তবে এই দুইজনের চেয়েও আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন আল-জাহিদ। কারণ আগের দিন রাতেই তিনি পৌঁছেছিলেন রানা প্লাজায়। তিনি বলেন, ‘আমরা ২৪ শে এপ্রিল সন্ধ্যার একটু পরে হেমায়েতপুর পৌঁছাই। হেমায়েতপুর গিয়ে দেখি সমস্ত গাড়ি বন্ধ। ওইখানে একটা ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ ছুটোছুটি করছে এবং বাঁশ দিয়ে রাস্তা ব্লক করে রাখছে। অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে-আসছে, লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছে। আমরা হেমায়েতপুর থেকে হাঁটা শুরু করি, হেঁটে রানা প্লাজায় পৌঁছাই। পৌঁছানোর পরে আমরা দেখি হাজার হাজার মানুষ জায়গাটি ঘিরে রয়েছে। ওই সময় এলাকাজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছিল।’

শুরুতেই বহুমুখী সংকটের শিকার হন স্বেচ্ছাসেবকেরা

স্বেচ্ছাসেবকেরা জানান, তাঁরা যখন কাজ শুরু করেন তখন তেমন কোনো সরকারি সহযোগিতা তাঁরা পাননি। উল্টো বেশকিছু বাধার মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। এর ফলে তাঁদের বহুমুখী সংকটের শিকার হতে হয়। এ সংকটের মধ্য দিয়েই কাজ শুরু করেন তাঁরা।

সোহেল বলেন, ‘যখন আমরা ধ্বংসস্তূপের ভিতরে ঢোকা শুরু করলাম তখন আমরা দেখলাম যে ভিতরে যারা আটকে পড়ে আছে তাদের জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা দরকার। এ সময় আমাদের এক বন্ধুর পরামর্শে ছোট ছোট অক্সিজেনের ক্যান যারা অনেক ভিতরে আটকে ছিল তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম। একপর্যায়ে অক্সিজেন ক্যানের সংকট শুরু হলো। দেখা গেল পর্যাপ্ত অক্সিজেন ক্যান আর পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া যারা ভারী কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছিলেন তাঁদের উদ্ধারের জন্য হাতুড়ি-বাটালের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমাদের কাছে এ ধরনের জিনিস ছিল না। তখন আমরা কাগজে লিখে দেখাচ্ছিলাম যদি কোনো রাজমিস্ত্রি থাকে তবে যেন যোগাযোগ করে। সে সময় যারা আগ্রহ দেখাত আমরা তাঁদের নিয়ে ভিতরে যেতাম।’

লিয়ন বলেন, ‘আমরা যে পয়েন্ট দিয়ে বিল্ডিংয়ে ঢুকি সে পয়েন্টটা বিল্ডিংয়ের পিছন সাইডে ছিল। আমরা পিছন দিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করি। কিন্তু সে সময় সরকারি বাহিনী এবং স্থানীয়রা আমাদের কোনোভাবেই এন্ট্রি দিতে চাচ্ছিল না। তারা তাদের মতো করে কাজ করতে চাচ্ছিল। এক প্রকার ফাইট করেই আমরা ভেতরে ঢুকছি। সরকারি প্রশাসন থেকে বারবার আমাদের বলা হচ্ছিল যে আপনারা যাবেন না, আপনাদের নিরাপত্তা আছে। এগুলোকে ডিঙিয়ে আমাদের প্রথম কাজটা করতে হয়।’

ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন স্বেচ্ছাসেবকরা

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে জীবিত ও মৃত মানুষকে বের করতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন সেখানকার স্বেচ্ছাসেবকরা। যে অভিজ্ঞতার চিত্র ফুটে ওঠে এই তিন স্বেচ্ছাসেবকের ভাষ্যে। জীবিত কিংবা মৃত মানুষের হাত-পা কাটা থেকে শুরু করে অর্ধগলিত লাশ ছোঁয়ার অভিজ্ঞতাও নিতে হয় তাঁদের। যে অভিজ্ঞতা ওই সময়ের জন্য প্রথম হলেও এখনকার জন্য ভয়াবহ কষ্টদায়ক। এর ফলে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে প্রত্যেকের চোখ ভিজে যায়, বারবার থেমে যান তাঁরা।

সেই থামা কণ্ঠে অশ্রুভরা চোখে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আশরাফুল আলম সোহেল বলেন, ‘আমরা যারা ওখানে কাজ করেছি তাদের কাছে এটা এমন এক অভিজ্ঞতা যেটা সারা জীবনেও ভোলা সম্ভব নয়। কারণ, আমাদের ভারী কংক্রিটের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের হাত-পা কেটে বের করতে হয়েছে। উদ্ধার করার সময় একদিন দেখি একটি ভারী কংক্রিটের নিচে এক ভাইয়ের কোমর পর্যন্ত আটকে ছিল। কিন্তু তাঁর কোমর পর্যন্ত কাটা সম্ভব হচ্ছিল না। সে সময় আমার এক সহযোদ্ধা বলল, ভাই ওই লোকটা নরম খিচুড়ি খেতে চাচ্ছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি।’

একই ধরনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার গল্প তুলে ধরে রায়হান তাহরাত লিয়ন বলেন, ‘ওইখানে এই রকম ঘটনার শিকার হয়েছি যে একজনের শুধু মাথাটা বের করার মতো অবস্থায় আছে। সে আমাদের নিচ থেকে ডাকতেছে যে ভাই আমি এখানে আছি। তখন আমরা নরমাল হাতুড়ি, বাটাল দিয়ে বিল্ডিংয়ের গর্তটাকে বড় করে তাঁকে টান দিয়ে বের করে আনলাম। এরপর আরেকবার ঠিক সন্ধ্যার সময় আমার এক ভাই বলল, ভাই এদিকে আসো একজন জিন্দা আছে। ও যখন বলল ভাই এখানে একটা জিন্দা আছে, তখন গিয়ে দেখি তাকে যদি আমরা বেরও করি তার পা-টা রাখতে পারতেছি না। জিনিসটা এরকম যে সে অর্ধেক হয়ে আছে তার কোমর কোনোভাবে আসছে, টান দিলে তার পা আটকে যাচ্ছে। আমরা অনেক চেষ্টা করছিলাম যে কোনোভাবে কংক্রিটটা সরানো যায় কিনা, কিন্তু আমরা তা পারছিলাম না। একপর্যায়ে লোকটা বলছে, “ভাই আমার এত কিছু লাগবে না, আমার পা কাইটা ফেলেন।” দিস ইজ দ্য ফার্স্ট টাইম আমার জীবনে যে কোনো একজন ব্যক্তি সে নিজে বাঁচার জন্য বলতেছে ভাই আমার পা-টা কাইটা ফেলেন। আমরা বলছি আরে দাঁড়ান না ভাই আগে ব্যবস্থা করি। পরবর্তীতে আমাদের উইদাউট অ্যানেস্থেসিয়া পর্যায়ে এই কাজটা করতে হয়েছে। তারপর আমরা তাকে বের করে নিয়ে আসতে পারছি।’

তবে আল-জাহিদের কাছে রানা প্লাজার ভয়াবহতার চেয়েও চরম ভয়াবহ ছিল রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা লাশগুলো রাখা অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা। যেখানে অর্ধগলিত লাশের মধ্য থেকে খুঁজতে হয়েছে শ্রমিকের পরিচয়পত্র। এর ফলে এই অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বারবার থেমে যান আল-জাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য রানা প্লাজার পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে স্টেপ বাই স্টেপ। দ্বিতীয় ধাপটা ছিল অধরচন্দ্র স্কুল। এ স্কুলে লাশ নেওয়া হচ্ছিল। তো আমরা যখন অধরচন্দ্রে পৌঁছাই তখন দেখলাম সেখানে খাবার নেই, পানি নেই, প্রচণ্ড গরম ও ধুলাবালু। আমরা পরে ওখানকার কিছু স্থানীয় ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শ্রমিকদের আত্মীয়-স্বজনদের সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। এরপর অধরচন্দ্রের পাশাপাশি এনাম মেডিকেলসহ স্থানীয় মেডিকেলগুলোতে গিয়ে আহতদের মানসিকভাবে কাউন্সেলিং করার চেষ্টা করছি। হাসপাতালে আমরা প্রায় তিন মাস পর্যন্ত কাজ করেছি।’

ট্রমা থেকে হয়েছে আত্মহত্যা, চলছে বয়ে বেড়ানো

রানা প্লাজার এই ট্র্যাজেডি স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ট্রমা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ট্রমা থেকে আত্মহত্যা করেছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। আর যারা বেঁচে আছেন তাঁরাও এই ট্রমার মধ্যে এখনও দিন কাটাচ্ছেন। যার কারণে এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধ তাঁদের কাছে এখনো লাশের গন্ধ হয়ে আছে।

ট্রমার কথা তুলে ধরে আশরাফুল আলম বলেন, ‘ওখানে যারা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছে তারা প্রত্যেকেই ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। তারা পরবর্তীতে দুঃস্বপ্ন দেখত, ঘুমাতে পারত না, সারাক্ষণ জেগে থাকলেও মাথার ভেতরে এটা ঘুরত। অনেকেই এই ট্রমাটা পার হতে পারেনি। এমনকি এই ট্রমা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে ঘটেছে। আমাদের এক বন্ধু হিমু এতটা ট্রমার ভিতরে ছিল যে রানা প্লাজা ধ্বংসের কয়েক বছর পরে ঠিক ২৪ এপ্রিল আত্মহত্যা করে। আর রানা প্লাজায় একটা ভয়ংকর ব্যাপার ছিল লাশের গন্ধ। সেখানে একটা সময় লাশ পচা শুরু করে। এর ফলে বাতাসে লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেই গন্ধ ঢাকা দেওয়ার জন্য আমরা এয়ার ফ্রেশনার ইউজ করা শুরু করি। কারণ সেখানে বাতাস এত দুর্গন্ধযুক্ত ছিল যে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছিল না। ঢাকায় আসার পর এই এয়ার ফ্রেশনারের ঘ্রাণই লাশের গন্ধের মতো মনে হতো।’

রায়হান তাহরাত লিয়ন বলেন, ‘সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একজনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিনি রানা প্লাজার ঠিক এক বছরের মাথায় সুইসাইড করেন। আরেকজন যাকে আমরা সুস্থ করে নিয়ে আসছিলাম, তিনিও বাড়িতে পাঠানোর কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান। আমাদের সহকর্মী হিমু রানা প্লাজার এই ট্রমায় আত্মহত্যা করে। রানা প্লাজার পরে হিমুর মতো আরও অনেকেই আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে নাই। আমি নিজে এখনও এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধ নিতে পারি না। এখনও মাঝে মাঝে মাংসের কিমা দেখলে রানা প্লাজার কথা মনে পড়ে। ওই সময়টা আমাদের পুরো ব্যক্তিগত জীবনকে ওলটপালট করে দিছে।’

আল-জাহিদ বলেন, ‘লাশের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পুরো এলাকাতে প্রচুর পরিমাণে এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে স্প্রে করা হতো। এই এয়ার ফ্রেশনারের সঙ্গে মানুষের পচা গন্ধ মিলে একটা বিকট পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে রানা প্লাজায় যারা উদ্ধার কাজ করেছে তাদের প্রত্যেকেরই গন্ধজনিত একটা সমস্যা ছিল। আমি নিজেও প্রায় ছয়-সাত বছর পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু এয়ার ফ্রেশনারের গন্ধ আমি নিতে পারতাম না। ওটা আমি লাশের গন্ধটাই পাইতাম।’

সম্পর্কিত