কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের তৎপরতা: পরস্পরকে দুষছে সরকারি ও বিরোধী দল

রাজধানীর গুলশানে মিছিলের সময় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা। প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারের সক্ষমতা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে। তবে বরাবরের মতো দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দায় চাপিয়েছে একে অপরের উপর।
বিরোধী দলে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কঠোর ও আগাম ব্যবস্থা নিতে সরকারের ঢিলেঢালা ভাবের কথা বললেও জামায়াত দেখছে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেরই একটি অংশের ইন্ধন। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেই মূলত সামনে আসার সুযোগ পাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
সরকারের একটি অংশের ইন্ধন দেখছে জামায়াত
আওয়ামী লীগের হঠাৎ তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির একটি অংশের ইন্ধনের কারণেই নিষিদ্ধ দল কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্ট্রিমকে বলেন, সরকারের কোনো অংশের ইঙ্গিত, সহানুভূতি বা ফ্যাসিলিটেশন (উপযোগী পরিবেশ তৈরি) ছাড়া একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল হতে পারে না। প্রশাসন বা সরকারের কোনো অংশ গোপনে বা পরোক্ষভাবে তাদের সুযোগ দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে এত থানা, ফাঁড়ি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছেন, সেটি প্রশ্নের বিষয়।
সরকারের ভেতরের কোনো অংশ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অবশ্য আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন না জামায়াতের এই নেতা। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণা বা এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ে বাস্তব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও উজ্জীবিত করার রাজনৈতিক বয়ান হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।
সরকারের কঠোর ভূমিকা চায় এনসিপি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের মিছিল ও কার্যক্রম ঠেকাতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। গুলশানে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে না পারায় গুলশানে মিছিল হয়েছে এবং সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঢিলেঢালা থাকলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করবেই।
আসিফ মাহমুদের মতে, ঘটনার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল কিংবা বিভিন্ন ধরনের হুমকি কাজে আসবে না।
এ ধরনের কার্যক্রম ও মিছিলের কারণে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি তৈরি হয় জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিলে রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি সহযোগিতা করবে।
শুধু আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নয়, জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
বিএনপির তীর বিরোধী দলের দিকে
জামায়াত-এনসিপি সরকারের দায় দেখলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মত ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াতে ইসলামী স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা পেতে আওয়ামী লীগকে নানাভাবে পুনর্বাসন করেছে। পালিয়ে থাকা দলটির নেতাদের জাতীয় ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার দায়িত্বও নিয়েছে। এটি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করছে। এ ছাড়া বিরোধী দলগুলোর ক্রমাগত সরকারবিরোধী অবস্থানও আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম স্ট্রিমকে বলেন, সরকারের বিরোধিতার নামে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কর্মসূচির মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার সুযোগে অন্য কোনো পক্ষ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।
তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরোধিতার নামে যখন ‘অকারণে’ বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কর্মসূচি দেয়, তখন অন্যরা সুযোগ নেয়। রাজনৈতিক দলগুলো এমন সুযোগ তৈরি না করলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতন্ত্র ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত হয়ে আগের অবস্থায় যেন ফিরে যেতে না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
.png)
-40e58c.jpeg)





