ভেসে আসা তিমিটি বালু চাপা, শরীরের নমুনা যাবে কক্সবাজার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা বেলিন প্রজাতির তিমিটি বালু চাপা। সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে আসা মৃত বেলিন প্রজাতির তিমিটি বালু চাপা দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈকতের ঝাউবন এলাকায় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে খুঁড়ে তিমিটি চাপা দেওয়া হয়।

এর আগে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধা‌নে তিমির শরীর থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় (কলাপাড়া) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষণ করা হ‌য়ে‌ছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য নমুনা কক্সবাজারের সমুদ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে আসা মৃত তিমিগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সাগরে প্রায় ৫৮ ফুট দীর্ঘ তিমিটি দেখতে পান জেলেরা। পরে স্রোতের টানে সৈকতের দিকে ভেসে এলে পরিবেশকর্মীরা তিমিটিকে মধ্য ঝাউবন এলাকায় আটকে রাখেন।

কুয়াকাটার উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সূত্র জানায়, খবর পেয়ে উপরা, বন বিভাগ, কুয়াকাটা পৌরসভা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেন। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রথমে তিমিটির শরীরে কেরোসিন ছিটানো হয়। পরে রাত আটটার দিকে ভেকু দিয়ে ঝাউবনের ভেতরে গর্ত খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে তিমিটিকে বালুচাপা দেওয়া হয়।

উপরার আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু খলিফা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা ব‌লেন, তি‌মির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য ফুলকা, পি‌ঠের, বু‌কের অং‌শের নমুনা সংগ্রহ করা হ‌য়ে‌ছে। পরে তা কলাপাড়ার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষণ করা হয়। এই নমুনা প্রথমে ঢাকায় মৎস্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ল্যাবে পাঠানো হ‌বে। সেখান থে‌কে কক্সবাজারে অবস্থিত সমুদ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওসার হোসেন বলেন, তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণ ও ভবিষ্যতে প্রাণী জাদুঘর নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটকদের সামনে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার বলেন, জাহাজের ধাক্কা, প্লাস্টিক দূষণ, শব্দদূষণ কিংবা খাদ্যসংকটসহ বিভিন্ন কারণে তিমির মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তিমিটির নমুনা ও কঙ্কাল সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ গবেষণা ও জনসচেতনতায় সহায়ক হ‌বে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত