জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদযাত্রা আরামদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন: সড়কমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪৩
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সংগৃহীত ছবি

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে গ্রামমুখী মানুষের চাপ আগামী দুই-তিন দিনে আরও বাড়বে, যা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সড়ক, নৌ এবং রেল—তিন পথেই যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’

যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হারেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে ফুলবাড়িয়া এবং এখন সায়েদাবাদ পরিদর্শন করলাম। কোথাও বাড়তি ভাড়ার প্রমাণ মেলেনি। এ ছাড়া বাসের শিডিউলে এখন পর্যন্ত কোনো বড় বিপর্যয় ঘটেনি, বাসগুলো সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে।’

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টার্মিনালগুলোতে বিআরটিএ ও পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। রাতে পর্যাপ্ত আলোর জন্য সার্চ লাইট এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

শৃঙ্খলা রক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতেন। এবার আমরা ২৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছি, যারা হাইওয়ে ও টার্মিনালগুলোতে ২৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।’

মহাসড়কের অবস্থা সম্পর্কে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘হাইওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো মেরামত ও সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। যেখানে নির্মাণ কাজ চলছিল, সেখান থেকে মালামাল ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যাতে অন্তত দুটি লেন সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। এছাড়া ঈদের আগের ৭ দিন ও পরের ৫ দিন অর্থাৎ মোট ১২ দিন দেশের সকল পেট্রোল পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।’

দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের কষ্টের কথা মাথায় রেখে যমুনা সেতুর টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ইফতার-সামগ্রী, খেজুর ও পানি বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পথে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে যেন দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা পায়, সে জন্য মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

সবশেষে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী মানুষকে একটি স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। আশা করছি, সবাই নির্বিঘ্নে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।’

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিআরটিএর প্রতিনিধি এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত