বৃষ্টিতে সকালেই চট্টগ্রামের সড়কে কোমর পানি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫৪
চট্টগ্রাম নগরীর সড়কে কোমর পানির মধ্যেই গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। স্ট্রিম ছবি

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও তলিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়ক। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে নগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। এর আড়াই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়।

পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয় প্রবর্তক মোড়ে। এক ঘণ্টার মধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্রের মোড়টি বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায়। সরেজমিনে রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কেও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি দেখা যায়।

এদিকে, শহরের নিচু এলাকা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সকালেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষরা পড়েন তীব্র ভোগান্তিতে। যানবাহনগুলোও চলে ধীরগতিতে। অনেক স্থানে ইঞ্জিনে পানি ঢোকায় সড়কের উপরই অচল হয়ে যায় গাড়ি। এতে সৃষ্টি হয় যানজট।

এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দেন রিকশাচালকরা। শেষপর্যন্ত দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যান অনেকে। আনিস জামাল নামে একজন বলেন, পানি জমে থাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে রিকশাচালকরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

নগরবাসী জানায়, বৃষ্টি আর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমর্থক। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরও নগরীতে জলাবদ্ধতা কমেনি। উল্টো দিন দিন সংকট বাড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়ছে নগরজীবন।

প্রবর্তক মোড় এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণও এমনই এক প্রকল্প। স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই এলাকায় ড্রেনগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। এতে বেশকিছু ড্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রবর্তক এলাকার পাশে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্পের কাজ চলায় থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, এতে জলাবদ্ধতা হয়েছে।

কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর শুরু হওয়া বৃষ্টিতে গতকাল সোমবারও নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ধারাবাহিক এই জলাবদ্ধতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নগরবাসী।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রহমান জানান, নগরীতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৩ মে পর্যন্ত হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টি বাড়তে পারে। কালবৈশাখী ও ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসও রয়েছে।

সম্পর্কিত