জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দি ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদন

ইসলাম ছাড়া সবকিছু দিয়ে বাংলাদেশকে আকৃষ্টের চেষ্টা করছে ইসলামপন্থীরা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৪
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের ‘জেন জি’ বিপ্লব থেকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া সেই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তার শাসনামলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু গত মাসের নির্বাচনে জামায়াত যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে দেশের প্রধান বিরোধীদল হয়ে ইতিহাস গড়বে— এটা খুব কম মানুষই কল্পনা করেছিল।

দি ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ইস্যু গ্রহণের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলাম এটি সম্ভব করেছে। বর্তমান নেতা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি তার ধর্মীয় পরিচয় আড়ালে রেখে নিজেকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে জামায়াতের অতীত ভুলের খেসারতের ইতিহাসও রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটি পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। আবার বাংলাদেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মুসলিম। তা সত্ত্বেও দেশটিতে মধ্যপন্থী ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির এক গর্বের ঐতিহ্য আছে।

বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলে হয় হাসিনার আওয়ামী লীগ, নয়তো গত নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি এসেছে। দুটি দলই পারিবারিক ব্যবসার মতো চালানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতি অভিযোগ আছে। তাই জামায়াত এখন সেই বড় দুই দলের বিপরীতে নিজেকে পরিবর্তনের, দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনের দল হিসেবে ব্র্যান্ড করেছে।

জামায়াতের সবচেয়ে বিচক্ষণ চাল ছিল ক্যাম্পাস রাজনীতিতে। গত সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বড় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন জয়ী হয়। ক্যাম্পাসগুলোয় কোরআনের দাওয়াত দেওয়ার বদলে সংগঠনটির কর্মীরা স্টাডি সেশন চালায়, কল্যাণমূলক কাজ করে, হলের নষ্ট ফ্যান ঠিক করে দেয়। এমনকি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা একটি ‘হিজাব র‍্যালি’র আয়োজন করে, যেখানে ইসলামপন্থী নন এমন অনেক নারীও যোগ দেন। যেমন ইসলামি স্কার্ফ এখন পরিচয়ের প্রচলিত সংস্কৃতির বাইরে ভিন্নধারার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জামায়াত জেন-জি বিপ্লবীদের নতুন ও অনভিজ্ঞ দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছে। এতে বিপ্লবীদের দলের কিছু তারকা প্রার্থী দল থেকে পদত্যাগ করেন। নির্বাচনে মাত্র ছয়জন ছাত্র জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পেরেছেন। তবে জামায়াত0 রাজনৈতিকভাবে নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরতে সফল হয় এবং জনপ্রিয় অভ্যুত্থানের বিজয়ী পক্ষে নিজেদের নিয়ে যায়।

জামায়াত এখন এমন এক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। তবে বিএনপির নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো অনেকেই বলছেন, ‘তাদের দর্শন কী সে বিষয়ে পরিষ্কার নই।’

জামায়াতের ভেতরে মধ্যপন্থী ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে বিভাজনও আছে। আর দলের নেতা নিজেও কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করে বসেন। যেমন একবার তিনি বলেছিলেন, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো জৈবিক দায়িত্ব নারীদের জন্য রাজনৈতিক নেতা হওয়া কঠিন করে তোলে। এতে বাংলাদেশের নারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই দেশেই বহু দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

আগামী নির্বাচন জেতার স্বপ্ন দেখছে জামায়াত। নির্বাচনে জিতলে কী করবে এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান গতানুগতিক মধ্য-ডানপন্থী কথা বলেন। ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা; শিক্ষাকে চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত বা দলীয় প্রভাবিত আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত তাত্ত্বিকভাবে যে শরিয়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা কেবল ‘ন্যায়বিচার, কল্যাণ ও ক্ষমতার সংযম’ সম্পর্কে। এই ধরনের অস্পষ্ট নীতির সঙ্গে তর্ক করা কঠিন—সম্ভবত এটাই উদ্দেশ্য। জামায়াত আসলে কেমন বাংলাদেশ গড়বে সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।

সম্পর্কিত