নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে সাহসিকতার স্বীকৃতি পেল এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পিরোজপুর

সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তহমিনার হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের জিয়ানগরে বাল্যবিবাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করে সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার (১৭)। এ জন্য তাকে সম্মাননা দিয়েছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তহমিনার হাতে তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিকা আক্তার, জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান এবং তহমিনার মা আনোয়ারা বেগম।

জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘নারী শিক্ষায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তহমিনা যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তহমিনার এই সাহসিকতা দেখে যেন কোনো অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বাল্যবিবাহে উৎসাহিত না করেন, এবং কেউ যেন নীরবে এমন অন্যায় মেনে না নেন।’

উল্লেখ্য, তহমিনা আক্তার জিয়ানগরের সেতারা স্মৃতি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আলম হাওলাদার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। বাবা-মা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে এক দুবাই প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের দিন ঠিক করেন। বিয়েতে রাজি না থাকায় তহমিনা সেদিন সাহসিকতার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেন। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করা হয়।

সম্পর্কিত