সৌদির অনুকরণে রাজশাহীতে ঈদ জামাত, মুসল্লি ৫

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী ও ভোলা

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ১০: ০৬
রাজশাহীতে ঈদ জামাতে নারী-পুরুষসহ মোট পাঁচজন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ইমামসহ তিন পুরুষ ও পৃথক স্থানে দুই নারী শরিক হন। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের অনুকরণে বুধবার (২৭ মে) রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঈদুল আজহার নামাজ হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদের এই জামাতে ইমামতি রহিম গাজী।

জামাতে নারী-পুরুষ মিলে মোট পাঁচজন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ইমামসহ তিন পুরুষ ও পৃথক স্থানে দুই নারী জামাতে শরিক হন।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে আসছেন। আগে দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উদযাপন করলেও, এখন সৌদি আরবের সঙ্গে রোজা এবং ঈদের নামাজ পড়ছেন।

ঈদের জামাতে বিশেষ মোনাজাত হয়। পরে ইমাম রহিম গাজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন– সৌদি আরবে ঈদ হওয়ায় আমরাও ঈদ করছি। বিষয়টি আসলে এমন নয়। চাঁদ শুধু একটি দেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্যই ওঠে। যেদিন চাঁদ ওঠে, সেদিন থেকেই নতুন মাস শুরু হয়। পৃথিবীর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সব দেশে একই সময়ে চাঁদ দেখা যায় না। কিন্তু চাঁদের অস্তিত্ব ও উদয়ের বিষয়টি সবার জন্য একই।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদ দেখতে না পাওয়ার কারণে কোনো এলাকায় নতুন মাসের ঘোষণা দেরিতে হতে পারে। তবে চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে নতুন মাস কার্যকর হয় বলে আমরা বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করছি।’

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বৃহস্পতিবার (২৮ মে) উদযাপিত হবে। সে অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ভোলার ১৪ গ্রামে ঈদ জামাত

ভোলার পাঁচ উপজেলার ১৪ গ্রামের মানুষ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এসব গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ আদায় এবং পশু কোরবানি দেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টবগী গ্রাম এলাকার মরহুম খলিফা মজনু মিয়ার বাড়ির আঙিনায় প্রথম ঈদের জামাত হয়। পরে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি জামাত হয়।

এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলার ছালাম মেম্বার বাড়ি, আব্দুল্লাহ মাঝি বাড়ি, লালমোহন উপজেলার লাঙ্গলখালীর ব্রিজের পশ্চিম পাশে পাটোয়ারী বাড়ির জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ঈদের জামাত হয়েছে।

ভোলার পাঁচ উপজেলার ১৪ গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়েন। ছবি: সংগৃহীত
ভোলার পাঁচ উপজেলার ১৪ গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়েন। ছবি: সংগৃহীত

সুরেশ্বর দরবার শরিফের মুরিদ ও মরহুম খলিফা মজনু মিয়ার ছেলে মো. রাশেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছি। এবারও ভোলার পাঁচ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ এক দিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন।’

ভোলা সদরের ইলিশা ও রতনপুর, বোরহানউদ্দিনের টবগী ও মুলাইপত্তন, তজুমদ্দিনের শিবপুর, খাসেরহাট, চাঁদপুর ও চাঁচড়া, লালমোহনের পৌর শহর, ফরাজগঞ্জ গ্রাম এবং চরফ্যাশন উপজেলার পৌর শহর, দুলারহাট, ঢালচর ও চর পাতিলা গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার ঈদুল আজহা পালন করেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল কাদের মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, আমাদের পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের অনুসৃত নিয়ম।

চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করছি।

স্থানীয় মুরিদদের ভাষ্য, সুরেশ্বর পীরের মুরিদ ছাড়াও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং ভাণ্ডারি শরিফ পীরের মুরিদ পরিবারের সদস্যরা শতাধিক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।

সুরেশ্বর পীরের মুরিদ বোরহানউদ্দিনের টবগী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার হারুন অর রশিদ বলেন, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা এবং ঈদ পালন করা যায় বলে আমরা বিশ্বাস করি। সে অনুযায়ী আমরা প্রতি বছর একদিন আগে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছি।

সম্পর্কিত