leadT1ad

শৈত্যপ্রবাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৩৭
চুয়াডাঙ্গায় হেড লাইট জ্বেলে চলাচল করছে যানবাহন। স্ট্রিম ছবি

একদিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে আবারও বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারদিক। এতে বিপাকে পড়েছেন শহরে আসা দিনমজুরেরা। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলেও ব্যাঘাত হচ্ছে। এর মধ্যেই আবার শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া কার্যালয়। এতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।

জেলার আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করে জেলার আবহাওয়া অফিস।

এর আগে রবিবার (৪ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। তবে আগের টানা চারদিন ধরে বয়ে যাওয়া মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ছেদ পড়ে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘এর আগে টানা চারদিন মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সে সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় প্রচণ্ড শীত। আমরা রাতে ঘুরে ঘুরে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ হাজারের মতো কম্বল বিতরণ করেছি। সরকারের কাছে আরও ৩ হাজার কম্বল পেয়েছি। সেই সঙ্গে চারটি উপজেলার জন্য আমরা ১৮ লাখ টাকা মতো পেয়েছি। এই টাকা দিয়ে কম্বল কেনার প্রক্রিয়াটা চলমান আছে।’

চুয়াডাঙ্গায় শীতে সব চেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুরেরা। স্ট্রিম ছবি
চুয়াডাঙ্গায় শীতে সব চেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুরেরা। স্ট্রিম ছবি

আজ সকালের দিকে চুয়াডাঙ্গা শহর ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের দিকে কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। সকাল আটটার পর সূর্য উঁকি দিলেও ছিল না উত্তাপ, সকাল ১০টার দিকে আবার সূর্য ডুবে যায়। এতে সারা দিনই মেঘলা আকাশ আজ। এর মধ্যেই উত্তরের হিমশীতল বাতাস শীতের দাপট বাড়িয়েছে দ্বিগুণ মাত্রায়। কুয়াশার কারণে একটু দূরের পথঘাট প্রায় দেখা যায় না। ঝুঁকি এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষেরা। অনেকে খোলা জায়গায় আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। গ্রাম থেকে জেলা শহরে কাজের সন্ধানে আসা লোকজন কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

মাঠে চাষের কাজ করতে যাওয়া কৃষিশ্রমিক আবদুল হান্নান স্ট্রিমকে বলেন, ‘ভোরে মাঠে নামতেই খুব কষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত ঠিকমতো চলে না। বাতাস থাকায় শীত আরও বেশি লাগছে। তারপরও কাজ না করলে চলবে না।’

আরেক দিনমজুর ইকতিয়ার উদ্দীন বলেন, ‘সকাল বেলা কুয়াশা এত ঘন থাকে যে কিছুই দেখা যায় না। তবুও কাজের তাগিদে বের হতে হচ্ছে। শীতের মধ্যেই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় কাজ করতে কষ্ট হয়।’

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, ‘জেলা পরিষদের মাধ্যমে আমরা কম্বল বিতরণ করব। এ সঙ্গে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। ফলে এই শীতে কেউ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য কম্বল বিতরণ অব্যাহত থাকবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত