জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের স্মারক ‘মাসুম কাবলির মসজিদ’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩২
ঐতিহাসিক চাটমোহর শাহী মসজিদ। স্ট্রিম ছবি

পাবনা জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে চাটমোহর উপজেলা সদরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৪৪৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চাটমোহর শাহী মসজিদ। ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের শাসনামলে নির্মিত এই মসজিদটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং বাংলার স্থাপত্য বিবর্তনের এক অমূল্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, সম্রাট আকবরের অবাধ্য সেনাপতি মাসুম খাঁ কাবলির অর্থায়নে তাঁর ভাই মুহাম্মদ বিন তুর্কি খান কাকশাল এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সম্রাট আকবর ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’ ঘোষণা করলে মাসুম খাঁ বিদ্রোহ ঘোষণা করে চাটমোহরে নিজের স্বাধীন ক্ষমতা বলয় গড়ে তোলেন। সেই স্বাধীনতার স্মারক হিসেবেই এই শাহী মসজিদটি নির্মিত হয়।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এটি সুলতানি এবং মুঘল—উভয় রীতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। প্রাচীন জাফরী ইটে নির্মিত এই মসজিদের দেয়াল প্রায় পৌনে সাত ফুট চওড়া, যা তীব্র গরমেও ভেতরে শীতল পরিবেশ বজায় রাখে। মসজিদের ভেতরে তিনটি নান্দনিক মিহরাব রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মিহরাব থেকে দুপাশের মিহরাবে যাওয়ার জন্য রয়েছে সুরঙ্গের মতো চমৎকার পথ। ৪৫ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ২২ ফুট প্রস্থের এই মসজিদে মাত্র দুই থেকে তিনটি কাতারে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদটির অন্যতম ঐতিহাসিক সম্পদ ছিল ফারসি ভাষায় খোদাই করা একটি শিলালিপি, যা বর্তমানে রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংস্কার করে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

পাবনার প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মান্নান পলাশের মতে, বাংলায় তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ পরিকল্পনার সূচনা সম্ভবত এখান থেকেই হয়েছিল। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা নিয়মিত ভিড় জমান।

সম্পর্কিত