আগস্টে হাম উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ২৬
আগস্টে হাম উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে। স্ট্রিম গ্রাফিক
আগস্টে হাম উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে। স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশে হাম পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। আগস্টে তা আরও বেড়েছে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্ট মাসে হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা—তিন ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৯৩০ জন। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ২৮২ জন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৬৪৮ জন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, শুধু আক্রান্তের সংখ্যাই নয়, হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাও আগস্টে বেড়েছে।

নথি অনুযায়ী, জুলাইয়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৪ হাজার ৮৭৮ জন। আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫৮ জনে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৫৮০ জন।

জুলাইয়ে হাম উপসর্গে মারা যান ১১৫ জন। আগস্টে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশ হাম উপসর্গে ৮৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ সময়ে হাম উপসর্গ ও হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৩ জনে।

‘৫ থেকে ১৫ বছর বয়সীদেরও টিকা দিতে হবে’

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমের আওতা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন।

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় আসেনি, এটা আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি। অথচ সরকার এটা স্বীকারই করে না যে তারা কম সংখ্যার শিশুকে টিকা দিয়েছে।’

মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আক্রান্তর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এটা কমিয়ে আনতে এখন ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সীদেরও টিকা দিতে হবে। শুধু ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না।’

তিনি আরও জানান, দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু ভিটামিনের অভাবে ভোগে, তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থাকে। এসব শিশুকে চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

‘কেন কমছে না, আমরাও চিন্তিত’

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানালেও আক্রান্তের সংখ্যা না কমার কারণ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ।

স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘হাম কেন কমছে না সেটা নিয়ে আমরাও চিন্তিত। ঠিক কেন কমছে না সেটা জানা নেই।’

নতুন কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা বাদ পড়েছে তাদেরকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত যেন সব শিশু টিকা পায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।’

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতা বাড়ানোকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত