রাজধানীর ৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই কলেজছাত্রের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতীকী ছবি

রাজধানীর ৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—মো. সাব্বির হোসেন (২১) ও মোহাম্মদ রিফাত (২২)।

নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মোহাম্মদ মনির জানান, সন্ধ্যায় ৩০০ ফিট জলসিঁড়ি বিশ্বরোড এলাকায় একটি প্রাইভেটকার মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পড়া বাইকের দুই আরোহীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের স্বজনরা জানান, সাব্বির ও রিফাত বন্ধু ছিলেন। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। সাব্বির খিলগাঁও মডেল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার শেখেরকান্দা এলাকায়। রিফাত বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনিও একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, দুর্ঘটনাস্থল হাইওয়ে পুলিশের আওতাভুক্ত হওয়ায় কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ বিষয়টি দেখছে।

কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ ইনচার্জ ও ইন্সপেক্টর সোহেল রানা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থালয় ছিলাম। বিকট একটা শব্দ শুনলাম, ছুটে গিয়ে দেখি দুজন গুরুতর অবস্থায়। তাঁদের প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অবনতি ঘটলে কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেলটি প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগে ছুটে চলছিল। সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ধাক্কায় চালক ও আরোহী দুজনেই ছিটকে পড়ে যায় পড়ে যায়। চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও তাঁর সঙ্গে থাকা আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না।’

এ ঘটনায় সড়ক আইনে বেপরোয়া গতিজনিত দুর্ঘটনার ধারায় অপমৃত্যুর মামলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে পেশ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকায় যত দুর্ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে ৩০০ ফিট ও এর আশেপাশে হাইওয়ে সড়কে; তার ৯০ শতাংশেরই বেশি ওভার স্পিডের কারণে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত