ফারুক হোসাইন

দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ এই লক্ষ্যমাত্রা জানিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন করে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারের এই লক্ষ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট।
বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই সক্ষমতার মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত (অন-গ্রিড) রয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট এবং অফ-গ্রিড বিদ্যুৎ ৩৭৮ দশমিক ৫২ মেগাওয়াট।
নবায়নযোগ্য শক্তির মোট সক্ষমতার ৮৩ দশমিক ২ শতাংশই (১ হাজার ৪৫২ দশমিক ১৬ মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুতের। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ হলেও, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা নগণ্য।
এরই মধ্যে সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তাদের সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা বছরে অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট করে বাড়াতে চায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বাজেটের উন্নয়ন বরাদ্দের বড় অংশ এখনো যাচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি বা তেল-গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশের ওপর এখনো ৬২ শতাংশ পর্যন্ত কর বহাল। নীতিগত দুর্বলতা ও আস্থাহীনতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দরপত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর সঙ্গে রয়েছে জমি সংকট ও গ্রিডের কারিগরি সীমাবদ্ধতা।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের (সিইআর) পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, বছরে আমরা নবায়নযোগ্য খাত থেকে মাত্র ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। বিদ্যুৎ খাতে গত বছর আমরা প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি। এই ভর্তুকি দিয়ে আমরা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট তৈরি করতে পারতাম।
তিনি বলেন, ট্যাক্স ইনসেনটিভ বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন নেই। শুধু আমদানি শুল্কগুলো কমালেই নবায়নযোগ্য খাতের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। রুফটপ সোলারের অনুমোদন পাওয়ার বাধা দূর করতে পারলে ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে আমরা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পেতে পারি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে বাজেটের কোনো মিল নেই। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোট বরাদ্দের ৯৫ দশমিক ৪২ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পের জন্য। বিপরীতে নবায়নযোগ্য খাত পাচ্ছে মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, আগামী অর্থবছরে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নবায়নযোগ্য খাতকে বিকশিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি (এমপিপি ২০২৫)’ কার্যকর এবং ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যন্ত্রাংশে বিদেশনির্ভরতা কমাতে সোলার প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও ব্যাটারি উৎপাদনে দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং সুনীল অর্থনীতির (ব্লু-ইকোনমি) আওতায় সমুদ্র উপকূলে বায়ুবিদ্যুৎ জরিপের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ২০৩০ সালে চাহিদা হবে ২৩ হাজার মেগাওয়াট। এর মানে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সে সময় প্রয়োজন হবে। এটি অসম্ভব নয়।
মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়েছে। পানিসম্পদ ও রেলমন্ত্রী কমিটিতে আছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ সহজের পাশাপাশি কীভাবে নীতি সহায়তা দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে এই কমিটি আগামী মাসে সুপারিশ দেবে।

দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ এই লক্ষ্যমাত্রা জানিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন করে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারের এই লক্ষ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট।
বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই সক্ষমতার মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত (অন-গ্রিড) রয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট এবং অফ-গ্রিড বিদ্যুৎ ৩৭৮ দশমিক ৫২ মেগাওয়াট।
নবায়নযোগ্য শক্তির মোট সক্ষমতার ৮৩ দশমিক ২ শতাংশই (১ হাজার ৪৫২ দশমিক ১৬ মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুতের। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ হলেও, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা নগণ্য।
এরই মধ্যে সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তাদের সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা বছরে অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট করে বাড়াতে চায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বাজেটের উন্নয়ন বরাদ্দের বড় অংশ এখনো যাচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি বা তেল-গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশের ওপর এখনো ৬২ শতাংশ পর্যন্ত কর বহাল। নীতিগত দুর্বলতা ও আস্থাহীনতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দরপত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর সঙ্গে রয়েছে জমি সংকট ও গ্রিডের কারিগরি সীমাবদ্ধতা।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের (সিইআর) পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, বছরে আমরা নবায়নযোগ্য খাত থেকে মাত্র ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। বিদ্যুৎ খাতে গত বছর আমরা প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি। এই ভর্তুকি দিয়ে আমরা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট তৈরি করতে পারতাম।
তিনি বলেন, ট্যাক্স ইনসেনটিভ বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন নেই। শুধু আমদানি শুল্কগুলো কমালেই নবায়নযোগ্য খাতের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। রুফটপ সোলারের অনুমোদন পাওয়ার বাধা দূর করতে পারলে ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ থেকে আমরা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পেতে পারি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে বাজেটের কোনো মিল নেই। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোট বরাদ্দের ৯৫ দশমিক ৪২ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পের জন্য। বিপরীতে নবায়নযোগ্য খাত পাচ্ছে মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, আগামী অর্থবছরে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নবায়নযোগ্য খাতকে বিকশিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি (এমপিপি ২০২৫)’ কার্যকর এবং ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যন্ত্রাংশে বিদেশনির্ভরতা কমাতে সোলার প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও ব্যাটারি উৎপাদনে দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং সুনীল অর্থনীতির (ব্লু-ইকোনমি) আওতায় সমুদ্র উপকূলে বায়ুবিদ্যুৎ জরিপের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ২০৩০ সালে চাহিদা হবে ২৩ হাজার মেগাওয়াট। এর মানে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সে সময় প্রয়োজন হবে। এটি অসম্ভব নয়।
মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়েছে। পানিসম্পদ ও রেলমন্ত্রী কমিটিতে আছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ সহজের পাশাপাশি কীভাবে নীতি সহায়তা দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে এই কমিটি আগামী মাসে সুপারিশ দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আগামী বাজেট হবে জনবান্ধব। বিনিয়োগ ও ব্যবসার নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অবহেলিত অঞ্চলে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেবে সরকার।
২২ মিনিট আগে
পূর্ব ঘোষণা ছাড়া নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
বরিশালে কোরবানির পশুর চামড়ার দামে বড় ধস নেমেছে। প্রতিটি গরুর চামড়া গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় ছাগলের চামড়া প্রায় মূল্যহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ফ্রি বা বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
৩৫ মিনিট আগে
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে