শিক্ষা খাতের বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

আগামী ৫ বছরে শিক্ষা খাতের বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ঝরে পড়া রোধে সরকার ২০২৬ এবং ২৭ অর্থবছরে বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। শুধু তা-ই নয় আমাদের যেটি পরিকল্পনা আছে, সেই পরিকল্পনা মতো এগিয়ে আমরা শিক্ষা খাতে বাজেট পাঁচ বছর শেষে ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় শুধু বিল্ডিং হয়েছে কিন্তু হিউম্যান রিসোর্সের কোনো উন্নতি হয়নি। আমাদের শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার যেরকম কর্মসূচি রয়েছে একই সাথে পর্যায়ক্রমিকভাবে তাদের সম্মানীয় বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা অনেক সময় দেখি যে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের তাড়াতাড়ি করে ক্লাস করিয়ে সেকেন্ড কোনো জবে অথবা কৃষি কাজে যেতে হয়। তা না হলে তার জন্য সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। সেকেন্ডারি স্কুলের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক শিক্ষকের ক্ষেত্রেই দেখেছি এরকম ঘটনা ঘটে। এই কাজটি যাতে তাদের না করতে হয় এবং তারা যেন সঠিকভাবে সময় এবং তাদের মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন সে জন্য সম্মানীয় বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরাও মনে করি।‘

নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ২২ এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মোট ৪ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এডিপির আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে। এই ১০টি স্কিমের মধ্যে একটি স্কিম ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিমেনশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়াও লার্নিং এক্সিলারেশন ইন এডুকেশন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।’

সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদেরকে স্কুল ড্রেস প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে আমরা তাদেরকে স্কুল ব্যাগও দিব। বাংলাদেশের সরকারি প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এই ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের মতো বাচ্চা আছে। আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত এই ১ কোটি ২০ লক্ষ বাচ্চাকেই এই পরিকল্পনার ভিতর নিয়ে আসবো।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত