প্যারোল মঞ্জুর হয়নি ছাত্রলীগ নেতার, বাবার লাশ নেওয়া হলো কারাফটকে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ০২
বরিশালের জেলগেটে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ

বরিশালে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কারাফটকে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাফটকে পাঁচ মিনিটের জন্য শেষবারের মতো বাবার লাশ দেখতে দেওয়া হয় কারাবন্দী ওই ছাত্রলীগ নেতাকে।

জানা গেছে, বরিশাল নগরীর নিউ সার্কুলার রোড গাজী বাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল বাশারের ছেলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আহসান শাহরুখ। তিনি চলতি এপ্রিল মাসেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

বরিশালে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর করেনি জেলা প্রশাসক। এমনকি দুই ঘণ্টা চেষ্টার পরও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আবেদন নিয়ে দেখা করতে পারেননি পরিবারটি। বিপরীতে মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে এ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কারাফটকে। সেখানে পাঁচ মিনিটের জন্য লাশ দেখতে দেওয়া হয় কারাবন্দী ওই ছাত্রলীগ নেতাকে।

শাহরুখের ছোট ভাই আল আমিন বলেন, ‘এ নিয়ে তাঁকে তিনবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে নিয়ে আব্বা খুবই টেনশন করতেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে আব্বা মারা যান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য ছেলে আহসান শাহরুখের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে রাজনৈতিক মামলা শুনে দীর্ঘ সময় কেউ সহযোগিতা করেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা আমরা ডিসের গেটের সামনে অপেক্ষা করেছি। কেউ আমাদের সঙ্গে দেখা করেনি। পরে অনুনয়-বিনয় করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করি। তিনি প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। বিপরীতে লাশ জেলগেটে দেখিয়ে নিতে বলেন। আমরা বাধ্য হয়ে আব্বার লাশ কারা ফটকে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে এনেছি।’

বরিশাল জেলগেটে শেষবারের মতো বাবাকে দেখেন কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা
বরিশাল জেলগেটে শেষবারের মতো বাবাকে দেখেন কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা

প্যারোলের আবেদন করা আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘আমরা প্যারোলের আবেদন করেছিলাম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি সম্ভব নয়। জেলগেটে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হবে।‘

স্বজনদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা হাকিম উপমা ফারিসা বলেন, ‘আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। পরে আবেদনের বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাই। স্যার অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে দেই। স্যার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেল গেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। এখানে পুরো বিষয়টি স্যারই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দেই।’

এ বিষয়ে জানতে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। এমনকি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবিরের মোবাইলে কল করলেও তারা রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলেও কোনও উত্তর দেননি। পরবর্তী সময়ে জেলখানার গেটে বক্তব্যের জন্য যাওয়া হলেও দায়িত্বরত কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত