ওলিউর রহমান

অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ থাকে— কবি সুধীন্দ্রনাথের এই উক্তি প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের সমাজে এর ব্যাপক প্রচলন। আমরা নিজের পক্ষের অন্যায়, অপরাধ দেখেও কোনো প্রতিবাদ করি না। চুপ থাকি। রাজনীতিতে তো আছেই, দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের ধর্মীয় অঙ্গনও অন্যায় দেখে চুপ থাকার এই মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত।
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোয় আবাসিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিকৃত মানসিকতা এবং অসাধু কতিপয় ব্যক্তি মাঝেমধ্যে ভয়ংকর অপকর্ম করার চেষ্টা করেন। মাঝেমধ্যেই এসব খবর মিডিয়া কিংবা অন্য মারফতে আলোচনায় আসে। ছেলে এবং মেয়ে উভয় মাদ্রাসাতেই এমন নিগ্রহের ঘটনা ঘটে।
মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসামহলে নৈতিক স্খলনের কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সেটিকে ধামাচাপা দেওয়া, প্রকাশ না করা কিংবা চুপ করে থাকার প্রবণতা দেখা যায়।
ব্যক্তির দায় কখন সমাজের ওপর বর্তায়
কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় লেবাস গায়ে জড়ালেই সে ধর্মের পণ্ডিত হয়ে যান না। পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার কিছু মানুষের মধ্যেই যেমন অপরাধপ্রবণতা থাকে, তেমনি ধর্মীয় গোষ্ঠীর কারও মধ্যেও সুপ্তভাবে এই প্রবণতা থাকতে পারে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু মারাত্মক হলো– ব্যক্তির অপরাধকে গোষ্ঠী বা সমাজের ইমেজ রক্ষার উদ্দেশ্যে গোপন রাখার প্রচেষ্টা। ধর্মের মান রক্ষার দোহাই দিয়ে ধর্মীয় অঙ্গনের অপকর্ম অস্বীকার করা কিংবা ধামাচাপা দেওয়া মানে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া।
ধর্ম কি এতই ঠুনকো ব্যাপার যে, ব্যক্তির অপরাধ প্রকাশ হলে ধর্ম ইমেজ সংকটে পড়ে যাবে? মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসায় সবাই কি অপকর্মে জড়িত? তাহলে অপরাধকে লুকানোর প্রবণতা কেন? এর মাধ্যমে তো ব্যক্তির অপরাধ গোটা সমাজের ওপর বর্তায়।
বাংলাদেশে অর্ধ লাখের বেশি মসজিদ। ছেলে ও মেয়েদের মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো শিক্ষার্থী। মন্দির আছে কয়েক হাজার। মন্দিরভিত্তিক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।
এই বিপুল জনসমষ্টিতে কয়টা অপকর্মের ঘটনা ঘটে? শতকরা হিসাব করলে ১ শতাংশও হবে না। কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ক্ষুদ্র ঘটনাকেও যদি লুকানোর চেষ্টা করা হয়, তখন এর দায় গোটা ধর্মীয় সমাজের ওপর বর্তায়।
আমাদের ধর্মীয় লোকেরা ধর্মটাকে খুব ছোট করে বোঝেন। নিজেদের মনে করেন ধর্মের ঠিকাদার। নিজের বেইজ্জতি মানে ধর্মের গায়ে কলঙ্ক লাগা। অথচ এটা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা নয়।
কেন ধর্মীয় লোকেরা দায় এড়াতে চান
আমাদের সমাজের একটি অন্যায্য প্রবণতা হলো– আমরা ধর্মীয় অঙ্গনের বিচ্ছিন্ন ঘটনাকেও সমষ্টির ওপর চাপানোর চেষ্টা করি। নিজেরা সব ধরনের অপরাধ করতে পারব কিন্তু ধর্মীয় লোকদের তুলসিপাতা হয়ে থাকতে হবে। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত কিংবা মাদ্রাসার কোনো শিক্ষকের অসংলগ্নতার খবর প্রকাশ হলে হইচই পড়ে যায়। গেল, গেল— সব গেল। ধর্মের লোকদের কাছেও মানুষ নিরাপদ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, প্রশাসনের কোনো পদস্থ কর্তা, বড় কোনো ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক কোনো নেতার অপকর্মের খবর প্রকাশ হলে আমরা হতাশা প্রকাশ করি ঠিক। কিন্তু নৈতিকতার প্রসঙ্গ তখন একটু কম আলোচিত হয়।
ধর্মীয় ব্যক্তির প্রতি মানুষের বাড়তি প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সমাজের মূল স্রোত থেকে তাদের অনেক বেশি পবিত্র মনে করার প্রবণতা যৌক্তিক কিছু না। তারা এই সমাজেরই অংশ। সমাজের ভালোমন্দের প্রভাব তাদের ওপরও পড়ে।
আমাদের এই বাড়তি প্রত্যাশা এবং অন্যায্য প্রবণতার ফলেই ধর্মীয় অঙ্গনের অসংলগ্নতার বিচ্ছিন্ন খবরও প্রকাশ করার পরিবর্তে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
দুশ্চরিত্র কোনো মাদ্রাসাশিক্ষক যখন লম্পট কোনো স্কুল শিক্ষকের অসংলগ্নতার খবর শোনে, তখন সেও সুযোগের সন্ধান করেন। এখানে প্রশ্ন যতটা না নৈতিকতার, তার চেয়ে বড় হলো আইন ও বিচারব্যবস্থার।
ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা কতটুকু
ধর্মীয় অঙ্গনে নিগ্রহের ঘটনা ঘটলে এখানকার কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কিন্তু আমাদের দেশে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা কতটুকু এই বিষয়টি তলিয়ে দেখা হয় না কখনো।
বিচারব্যবস্থার দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের এখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ খুবই সামান্য। সেক্যুলার রাষ্ট্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থাকে কাগুজে বাঘ কিংবা নির্বিষ সাপের মতো। বৈধ-অবৈধ ফতোয়ার দেওয়ার অধিক জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই।
বাংলাদেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নিন্দা জানিয়ে একটা বিবৃতি দিতে পারে সর্বোচ্চ। ধরা যাক, কওমি মাদ্রাসার কথা। এখানে রাষ্ট্রের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই, রাষ্ট্র তাদের বিশেষভাবে মূল্যায়নও করে না। তাই একজন কওমি শিক্ষক অপকর্ম করলে তাঁকে বিশেষ কোনো শাস্তি প্রদানের সুযোগ নেই কর্তৃপক্ষের হাতে। কারণ, তাঁকে এক মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করলে অন্য মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে নেবে কিংবা নিজে আরেকটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করবে। যেখানে বাধা প্রদানের সুযোগ কারও নেই।
ফলে ধর্মীয় অঙ্গনে অন্যায়, অপরাধ প্রতিরোধে এখানকার কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার প্রসঙ্গও আলোচনা করা জরুরি।
অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই
পরিস্থিতি যা-ই হোক, অপরাধ সংঘটিত হলে তা ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ কোনো অবস্থাতেই নেই। কোনো অন্যায় প্রকাশ না করা মানে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া। ধর্ম কখনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়ার কথা বলে না। ধর্মের নামে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে ধর্মের ওপর ‘খোদাগিরি’ করা।
এর ফলাফল ও পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ব্যক্তির অপরাধের দায় তখন গোটা সমাজকে বহন করতে হয়। অন্যায়কে আড়াল করা কখনো ইজ্জত রক্ষা নয় বরং ইজ্জতের কফিনে পেরেক ঠোকার মতো। যে সমাজ সত্য বলার সাহস হারায়, সে সমাজ ধীরে ধীরে অপরাধীর আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।

অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ থাকে— কবি সুধীন্দ্রনাথের এই উক্তি প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের সমাজে এর ব্যাপক প্রচলন। আমরা নিজের পক্ষের অন্যায়, অপরাধ দেখেও কোনো প্রতিবাদ করি না। চুপ থাকি। রাজনীতিতে তো আছেই, দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের ধর্মীয় অঙ্গনও অন্যায় দেখে চুপ থাকার এই মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত।
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোয় আবাসিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিকৃত মানসিকতা এবং অসাধু কতিপয় ব্যক্তি মাঝেমধ্যে ভয়ংকর অপকর্ম করার চেষ্টা করেন। মাঝেমধ্যেই এসব খবর মিডিয়া কিংবা অন্য মারফতে আলোচনায় আসে। ছেলে এবং মেয়ে উভয় মাদ্রাসাতেই এমন নিগ্রহের ঘটনা ঘটে।
মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসামহলে নৈতিক স্খলনের কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সেটিকে ধামাচাপা দেওয়া, প্রকাশ না করা কিংবা চুপ করে থাকার প্রবণতা দেখা যায়।
ব্যক্তির দায় কখন সমাজের ওপর বর্তায়
কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় লেবাস গায়ে জড়ালেই সে ধর্মের পণ্ডিত হয়ে যান না। পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার কিছু মানুষের মধ্যেই যেমন অপরাধপ্রবণতা থাকে, তেমনি ধর্মীয় গোষ্ঠীর কারও মধ্যেও সুপ্তভাবে এই প্রবণতা থাকতে পারে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু মারাত্মক হলো– ব্যক্তির অপরাধকে গোষ্ঠী বা সমাজের ইমেজ রক্ষার উদ্দেশ্যে গোপন রাখার প্রচেষ্টা। ধর্মের মান রক্ষার দোহাই দিয়ে ধর্মীয় অঙ্গনের অপকর্ম অস্বীকার করা কিংবা ধামাচাপা দেওয়া মানে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া।
ধর্ম কি এতই ঠুনকো ব্যাপার যে, ব্যক্তির অপরাধ প্রকাশ হলে ধর্ম ইমেজ সংকটে পড়ে যাবে? মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসায় সবাই কি অপকর্মে জড়িত? তাহলে অপরাধকে লুকানোর প্রবণতা কেন? এর মাধ্যমে তো ব্যক্তির অপরাধ গোটা সমাজের ওপর বর্তায়।
বাংলাদেশে অর্ধ লাখের বেশি মসজিদ। ছেলে ও মেয়েদের মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো শিক্ষার্থী। মন্দির আছে কয়েক হাজার। মন্দিরভিত্তিক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।
এই বিপুল জনসমষ্টিতে কয়টা অপকর্মের ঘটনা ঘটে? শতকরা হিসাব করলে ১ শতাংশও হবে না। কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ক্ষুদ্র ঘটনাকেও যদি লুকানোর চেষ্টা করা হয়, তখন এর দায় গোটা ধর্মীয় সমাজের ওপর বর্তায়।
আমাদের ধর্মীয় লোকেরা ধর্মটাকে খুব ছোট করে বোঝেন। নিজেদের মনে করেন ধর্মের ঠিকাদার। নিজের বেইজ্জতি মানে ধর্মের গায়ে কলঙ্ক লাগা। অথচ এটা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা নয়।
কেন ধর্মীয় লোকেরা দায় এড়াতে চান
আমাদের সমাজের একটি অন্যায্য প্রবণতা হলো– আমরা ধর্মীয় অঙ্গনের বিচ্ছিন্ন ঘটনাকেও সমষ্টির ওপর চাপানোর চেষ্টা করি। নিজেরা সব ধরনের অপরাধ করতে পারব কিন্তু ধর্মীয় লোকদের তুলসিপাতা হয়ে থাকতে হবে। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত কিংবা মাদ্রাসার কোনো শিক্ষকের অসংলগ্নতার খবর প্রকাশ হলে হইচই পড়ে যায়। গেল, গেল— সব গেল। ধর্মের লোকদের কাছেও মানুষ নিরাপদ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, প্রশাসনের কোনো পদস্থ কর্তা, বড় কোনো ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক কোনো নেতার অপকর্মের খবর প্রকাশ হলে আমরা হতাশা প্রকাশ করি ঠিক। কিন্তু নৈতিকতার প্রসঙ্গ তখন একটু কম আলোচিত হয়।
ধর্মীয় ব্যক্তির প্রতি মানুষের বাড়তি প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সমাজের মূল স্রোত থেকে তাদের অনেক বেশি পবিত্র মনে করার প্রবণতা যৌক্তিক কিছু না। তারা এই সমাজেরই অংশ। সমাজের ভালোমন্দের প্রভাব তাদের ওপরও পড়ে।
আমাদের এই বাড়তি প্রত্যাশা এবং অন্যায্য প্রবণতার ফলেই ধর্মীয় অঙ্গনের অসংলগ্নতার বিচ্ছিন্ন খবরও প্রকাশ করার পরিবর্তে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
দুশ্চরিত্র কোনো মাদ্রাসাশিক্ষক যখন লম্পট কোনো স্কুল শিক্ষকের অসংলগ্নতার খবর শোনে, তখন সেও সুযোগের সন্ধান করেন। এখানে প্রশ্ন যতটা না নৈতিকতার, তার চেয়ে বড় হলো আইন ও বিচারব্যবস্থার।
ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা কতটুকু
ধর্মীয় অঙ্গনে নিগ্রহের ঘটনা ঘটলে এখানকার কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কিন্তু আমাদের দেশে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা কতটুকু এই বিষয়টি তলিয়ে দেখা হয় না কখনো।
বিচারব্যবস্থার দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের এখানে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ খুবই সামান্য। সেক্যুলার রাষ্ট্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থাকে কাগুজে বাঘ কিংবা নির্বিষ সাপের মতো। বৈধ-অবৈধ ফতোয়ার দেওয়ার অধিক জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই।
বাংলাদেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নিন্দা জানিয়ে একটা বিবৃতি দিতে পারে সর্বোচ্চ। ধরা যাক, কওমি মাদ্রাসার কথা। এখানে রাষ্ট্রের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই, রাষ্ট্র তাদের বিশেষভাবে মূল্যায়নও করে না। তাই একজন কওমি শিক্ষক অপকর্ম করলে তাঁকে বিশেষ কোনো শাস্তি প্রদানের সুযোগ নেই কর্তৃপক্ষের হাতে। কারণ, তাঁকে এক মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করলে অন্য মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে নেবে কিংবা নিজে আরেকটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করবে। যেখানে বাধা প্রদানের সুযোগ কারও নেই।
ফলে ধর্মীয় অঙ্গনে অন্যায়, অপরাধ প্রতিরোধে এখানকার কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার প্রসঙ্গও আলোচনা করা জরুরি।
অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই
পরিস্থিতি যা-ই হোক, অপরাধ সংঘটিত হলে তা ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ কোনো অবস্থাতেই নেই। কোনো অন্যায় প্রকাশ না করা মানে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া। ধর্ম কখনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়ার কথা বলে না। ধর্মের নামে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে ধর্মের ওপর ‘খোদাগিরি’ করা।
এর ফলাফল ও পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ব্যক্তির অপরাধের দায় তখন গোটা সমাজকে বহন করতে হয়। অন্যায়কে আড়াল করা কখনো ইজ্জত রক্ষা নয় বরং ইজ্জতের কফিনে পেরেক ঠোকার মতো। যে সমাজ সত্য বলার সাহস হারায়, সে সমাজ ধীরে ধীরে অপরাধীর আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।

মদিনাতুল মুনাওয়রাহ। এখানেই মসজিদে নববীর পাশে শায়িত আছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই শহরটিকে মদিনাতুর রাসুল বা রাসুলের শহর বলা হয়।
৫ দিন আগে
সামর্থ্যের কারণে সাধারণত মানুষ জীবনে একবারই হজ করে৷ ভিন্ন দেশ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশে এই ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। তাই প্রথমবার হজযাত্রীদের তাওয়াফ, ইহরামসহ প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ আমল বিষয়ে আগে থেকে কিছু মাসআলা জেনে রাখা ভালো।
১২ দিন আগে
পয়লা বৈশাখ এলেই নানা বিতর্ক চোখে পড়ে। কেউ এটাকে সংস্কৃতি বলে আঁকড়ে ধরতে চায়, কেউ ধর্মের নামে পুরোটা প্রত্যাখ্যান করতে চায়। কিন্তু এই তর্কের ভিড়ে আমার মনে পড়ে যায় একেবারে অন্যরকম এক বৈশাখ।
১৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। কয়েক মাস আগে পার্শ্ববর্তী জেলা রাজবাড়িতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় মাজারে হামলার খবর এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
১৬ দিন আগে