গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে যাত্রীরাও

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাস্তায় সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমেছে এবং বেড়েছে ভাড়া। স্ট্রিম ছবি

দেশে চলমান গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকার সড়কের সাধারণ যাত্রীরা। পাম্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় রাস্তায় সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমেছে এবং বেড়েছে ভাড়া। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাসাবাড়ির রান্নার গৃহস্থালি দুর্ভোগের পাশাপাশি এবার গণপরিবহন ও সিএনজি অটোরিকশার সংকট তৈরি হয়েছে।

বনানীগামী যাত্রী মোহাম্মদ আসলাম বলেন, ‘আমার বাসাতেও গ্যাস নাই। গত বেশ কয়েক দিন ধরে এই অবস্থা। রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা কিনতে হয়েছে। এখন রাস্তাতেও বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে বাড়তি ভাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সিএনজিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে না ঘুমিয়ে দীর্ঘ লাইন ঠেলে গ্যাস নিতে হতো। তাই ভাড়া একটু বেশি না নিলে পোষাচ্ছে না।’

একই চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে আঁটিবাজার ও ঘাটার চরগামী সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতে। সিএনজিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দিনে পাম্পে গেলে গ্যাসের চাপ না থাকার কথা বলে গ্যাস দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে রাতে সিরিয়াল দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াতে হয়। গত পনেরো দিন রাতে ঘুম হয় না। গাড়ির চাকা ঘুরলে টাকা আসে, কিন্তু গ্যাসের জন্যই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অর্ধেক রাত। তাও সবাই গ্যাস পায় না।’

কারওয়ান বাজার মোড়ে সিএনজির অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আগে যত দ্রুত সিএনজি পাওয়া যেত, গত কয়েক দিন ধরে সেটা হচ্ছে না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার ভাড়াও দিতে হচ্ছে আগের তুলনায় বেশি।’

তবে ঘাটার চরের যাত্রী সাঈদ হাসান জানান, নির্দিষ্ট রুটের সিএনজিতে এখনো সরাসরি ভাড়া বাড়েনি। আগের মতো পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় সামনে ভাড়া বাড়ার শঙ্কা আছে।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বিশেষ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর কারণে বর্তমানে আমদানি করা গ্যাসের একটি বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত