এখনো বেচাবিক্রি কম গাবতলী হাটে, লোকসানের শঙ্কায় বিক্রেতারা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৬: ৫৮
এখনো জমে ওঠেনি গাবতলী পশুর হাট। স্ট্রিম ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে এখনো বেচাবিক্রি জমে ওঠেনি। আগামী দুই দিন পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করছেন হাটসংশ্লিষ্টরা।

সোমবার সরেজমিনে গাবতলী পশুর হাটে বিক্রেতা, ক্রেতা এবং হাট ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া থেকে সাতটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত তার একটি গরুও বিক্রি হয়নি। তিনি জানান, ক্রেতারা তার কেনা দামের চেয়েও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম দাম বলছেন।

পাবনা থেকে দুটি গরু নিয়ে আসা সুমন মিয়ারও হাটে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো গরু বিক্রি করতে পারেননি।

একই চিত্র দেখা গেছে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর থেকে আসা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও। সেখানকার বিক্রেতা মোহাম্মদ সেলিম রেজা দুটি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, হাটে কোনো কাস্টমারই নেই। তিনি গরু দুটির মধ্যে বড়টির দাম চেয়েছেন ২ লাখ টাকা, কিন্তু ক্রেতারা সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা দাম বলছেন। মুজিবনগরের আরেক বিক্রেতা জুরায়েস তার গরুর দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চাইলেও ক্রেতাদের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা অফার করা হচ্ছে।

হাটে একটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন মোহাম্মদ তৌফিক আলী। তিনি গরুর দাম চেয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, কিন্তু ক্রেতারা ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি বলেনি।

মেহেরপুরের পাকোরিয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নিজের খামারে লালন-পালন করা ৪টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন গাবতলী হাটে। তিনি জানান, একটি গরুও এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়নি। সব গরুই বেশ বড়। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গরু চার লাখ টাকার নিচে বিক্রি করলে আমার বড় ধরনের লোকসান হয়ে যাবে।’

হাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্ট্রিমের সঙ্গে কথা হয় হাটের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হৃদয়ের সঙ্গে। তিনি জানান, এখনো বিক্রি শুরুই হয়নি বলা চলে। কাস্টমারই আসছেন না। তবে আগামীকাল থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়বে এবং বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।

হাটের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেখানে দায়িত্বরত শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য। তিনি জানান, হাটের ভেতরের ট্রাফিক ও ট্রাক ম্যানেজমেন্ট খুবই দুর্বল। ট্রাকগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে হাটের ভেতরে ও আশেপাশে তীব্র জটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই জট ছাড়াতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো বাজারে বিক্রি নেই বললেই চলে, কাস্টমারও নেই।

তবে মিরপুরের হোসেন আলীকে একটি ছোট গরু ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। তিনি জানান, গরুর দাম আকাশাছোঁয়া না হলেও মন্দ না। আমাদের জন্য ছোট গরুই ঠিক আছে। আরেকজন ক্রেতা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বেশ বড়সড় একটা গরু কিনেছেন।

সম্পর্কিত