স্ট্রিম সংবাদদাতা

বৃষ্টির অভাবে অনেকটাই শুকিয়ে গেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। অথচ এখন চলছে বর্ষাকাল। হ্রদে পানি কম থাকায় নৌপথে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। উৎপাদন কমেছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও।
রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে পাঁচ উপজেলার চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। কিন্তু বর্ষাকালেও হ্রদে পানি না থাকায় যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন কঠিন হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চালু রয়েছে তিনটি ইউনিট। এ তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৯৫ মেগাওয়াট। যার মধ্যে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট, ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট ও ৪ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট।
বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। যদিও বছরের এ সময়ে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৪ দশমিক ১৬ এমএসএল।
কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না লঞ্চগুলো। ফলে যাতায়াতের খরচও বেড়েছে। এছাড়া হ্রদের মাঝে কিছু ডুবোচরে লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বোটগুলো আটকে গিয়ে ছোটোখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
জুরাছড়ি বাসিন্দা সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটি শহর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলা সীমানা নতুন বাজার পর্যন্ত আসতে পারে। সেখান থেকে ছোট ট্রলার বোটে করে জুরাছড়ি উপজেলা রাস্তা মাথা পর্যন্ত এসে তারপর রাস্তা মাথা থেকে মোটরসাইকেলের করে উপজেলা সদর পর্যন্ত আসতে হয়। এতে চার-পাঁচগুণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। জুরাছড়ি উপজেলার একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম নৌ-পথ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে এখানকার লোকজন।
বিলাইছড়ির উপজেলার কুদ্দুস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, হ্রদে পানি এখন একদম নেই বললেই চলে। জেলা শহর থেকে মালামাল নিয়ে উপজেলাতে পৌছাতে খুব কষ্ট হয়। পরিবহন ভাড়া বেশি হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। বৃষ্টি না হলে পানি যদি না বাড়ে হয়তো কষ্ট আরও বাড়বে।
বরকল উপজেলায় বাসিন্দা ভাগ্য রতন চাকমা বলেন, পানি কমে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগে কষ্ট হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজে জেলা সদরের সঙ্গে সবসময় যাতায়াত করতে হয়। পানি কমে যাওয়ার লঞ্চগুলোও ঠিকমতো চলতে পারে না।
রাঙামাটি লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কোনো রকম অর্ধেক পর্যন্ত যেতে পারে। বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের পানি না বাড়লে লঞ্চ চলাচল করতে পারে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে যাতায়াতে পাঁচ উপজেলার মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত কাপ্তাই হ্রদটি খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হ্রদের পানির ওপর নির্ভর করে। হ্রদে পানি বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে আর পানি কমে গেলে উৎপাদনও কমে। এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পানি সংকটে সবগুলো ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আপাতত দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। তিনটি ইউনিট চালু রয়েছে। যদি ভারী বৃষ্টিপাত না হলে সচল ইউনিটগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ খননের দাবি এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যে নদীপথ খননে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আশা করছি, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর -অক্টোবরের দিকে কাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মানুষের দুর্ভোগ লাগব হবে।

বৃষ্টির অভাবে অনেকটাই শুকিয়ে গেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। অথচ এখন চলছে বর্ষাকাল। হ্রদে পানি কম থাকায় নৌপথে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। উৎপাদন কমেছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও।
রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে পাঁচ উপজেলার চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। কিন্তু বর্ষাকালেও হ্রদে পানি না থাকায় যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন কঠিন হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চালু রয়েছে তিনটি ইউনিট। এ তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৯৫ মেগাওয়াট। যার মধ্যে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট, ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট ও ৪ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট।
বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। যদিও বছরের এ সময়ে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৪ দশমিক ১৬ এমএসএল।
কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না লঞ্চগুলো। ফলে যাতায়াতের খরচও বেড়েছে। এছাড়া হ্রদের মাঝে কিছু ডুবোচরে লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বোটগুলো আটকে গিয়ে ছোটোখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
জুরাছড়ি বাসিন্দা সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটি শহর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলা সীমানা নতুন বাজার পর্যন্ত আসতে পারে। সেখান থেকে ছোট ট্রলার বোটে করে জুরাছড়ি উপজেলা রাস্তা মাথা পর্যন্ত এসে তারপর রাস্তা মাথা থেকে মোটরসাইকেলের করে উপজেলা সদর পর্যন্ত আসতে হয়। এতে চার-পাঁচগুণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। জুরাছড়ি উপজেলার একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম নৌ-পথ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে এখানকার লোকজন।
বিলাইছড়ির উপজেলার কুদ্দুস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, হ্রদে পানি এখন একদম নেই বললেই চলে। জেলা শহর থেকে মালামাল নিয়ে উপজেলাতে পৌছাতে খুব কষ্ট হয়। পরিবহন ভাড়া বেশি হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। বৃষ্টি না হলে পানি যদি না বাড়ে হয়তো কষ্ট আরও বাড়বে।
বরকল উপজেলায় বাসিন্দা ভাগ্য রতন চাকমা বলেন, পানি কমে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগে কষ্ট হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজে জেলা সদরের সঙ্গে সবসময় যাতায়াত করতে হয়। পানি কমে যাওয়ার লঞ্চগুলোও ঠিকমতো চলতে পারে না।
রাঙামাটি লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কোনো রকম অর্ধেক পর্যন্ত যেতে পারে। বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের পানি না বাড়লে লঞ্চ চলাচল করতে পারে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে যাতায়াতে পাঁচ উপজেলার মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত কাপ্তাই হ্রদটি খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হ্রদের পানির ওপর নির্ভর করে। হ্রদে পানি বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে আর পানি কমে গেলে উৎপাদনও কমে। এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পানি সংকটে সবগুলো ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আপাতত দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। তিনটি ইউনিট চালু রয়েছে। যদি ভারী বৃষ্টিপাত না হলে সচল ইউনিটগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ খননের দাবি এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যে নদীপথ খননে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আশা করছি, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর -অক্টোবরের দিকে কাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মানুষের দুর্ভোগ লাগব হবে।
.png)

রাজধানী থেকে কক্সবাজারগামী নভোএয়ারের একটি উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকায় ফিরে জরুরি অবতরণ করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যার এই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
১১ ঘণ্টা আগে
সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা তাজুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক শিক্ষক আজিজুর রহমানকে নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির করা হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
টেলিযোগাযোগ অপারেটর গ্রামীণফোনের (জিপি) কাছে ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই অর্থ আদায়ে তারা গ্রামীণফোনের সম্পদ সাত দিনের মধ্যে হস্তান্তরের জন্য সারা দেশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ, জিপি পয়েন্ট ও ভেন্ডরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
১১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
১১ ঘণ্টা আগে