স্ট্রিম সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে ১৪ কিয়ার (৪ দশমিক ২ একর) খেতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক ফেদল মিয়া। কিন্তু হঠাৎ উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে তাঁর ধানখেত। এখনো সেই ধান পানির নিচে। দশ সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমার সবকিছুই পানিতে ডুবে আছে। চোখের সামনে ধান পচে যাচ্ছে।’
ফেদল মিয়ার বাড়ি হাকালুকি হাওরের কোলঘেঁষা কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বড় মসজিদের কাছে। গত বছর হাওরে তাঁর ১৪ কিয়ার জমিতে বোরো আবাদ করে ১৫০ মণ ধান পেয়েছিলেন। চলতি বছর সেই জমি আবাদ করতে গিয়ে নিজস্ব সঞ্চয়ের পাশাপাশি প্রায় ২৫ হাজার টাকা ঋণও নিয়েছেন তিনি। ধানের থোড় আসার সময়ই হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে গেছে পুরো খেত। এখন পরিবার নিয়ে চলার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ফেদল মিয়া বলেন, ‘আমি একটা ধানও পাবো না। পরিশ্রম তো গেলই, এখন লোন কীভাবে শোধ করব, তা ভেবেই ভয় লাগে। এত বড় পরিবার নিয়ে কী করব, কিছু বুঝতে পারছি না।’ এত বড় ক্ষতির মুখেও সরকারি সহায়তা বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হয় হাওয় এলাকায়। পাশাপাশি জুড়ী, কণ্ঠিনালা, গোগালিছড়া ও ফানাই নদী দিয়ে উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসে। পর দিন শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই হাওরের উগলা ও হাসইরডিবি বিলে পানি প্রবেশ শুরু করে। দুপুরের মধ্যেই তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ ধানখেত। মাঝে পানি কমার আভাস মিললেও গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, চলতি বছর উপজেলার হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় ৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে পানি উঠেছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে। এতে ফসলের ক্ষতি সীমিত হবে বলে তিনি মনের করেন।
তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। হাওরপাড়ের কৃষকেরা বলছেন, গত কয়েক দিনের ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে তারা আতঙ্কে আছেন। পানি বাড়ায় অনেকেই কাঁচা বা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ পশুখাদ্য হিসেবে ধান তুলছেন, আবার কেউ পানিতে নেমে ভেসে থাকা ধান রক্ষার শেষ চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, হাওর এলাকায় বছরের এই সময় বৃষ্টি, উজানের ঢল ও আগাম বন্যার ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। এর যেকোনো একটি ঘটলেই সর্বনাশ হয়ে যায় কৃষকের।

বুধবার হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমি পানিতে নিমজ্জিত। কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন, কোথাও ভেসে থাকা ফসল তুলতে প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
জেলার পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, হাওরাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির জন্য শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী। নদী ও হাওরের পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে কৃষি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খনন, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, স্লুইস গেট সচল রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় প্রায় ২০ হেক্টর বোরো ধান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলার উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। জেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সাধ্য মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা প্রদান করা হবে।’

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে ১৪ কিয়ার (৪ দশমিক ২ একর) খেতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক ফেদল মিয়া। কিন্তু হঠাৎ উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে তাঁর ধানখেত। এখনো সেই ধান পানির নিচে। দশ সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমার সবকিছুই পানিতে ডুবে আছে। চোখের সামনে ধান পচে যাচ্ছে।’
ফেদল মিয়ার বাড়ি হাকালুকি হাওরের কোলঘেঁষা কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বড় মসজিদের কাছে। গত বছর হাওরে তাঁর ১৪ কিয়ার জমিতে বোরো আবাদ করে ১৫০ মণ ধান পেয়েছিলেন। চলতি বছর সেই জমি আবাদ করতে গিয়ে নিজস্ব সঞ্চয়ের পাশাপাশি প্রায় ২৫ হাজার টাকা ঋণও নিয়েছেন তিনি। ধানের থোড় আসার সময়ই হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে গেছে পুরো খেত। এখন পরিবার নিয়ে চলার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ফেদল মিয়া বলেন, ‘আমি একটা ধানও পাবো না। পরিশ্রম তো গেলই, এখন লোন কীভাবে শোধ করব, তা ভেবেই ভয় লাগে। এত বড় পরিবার নিয়ে কী করব, কিছু বুঝতে পারছি না।’ এত বড় ক্ষতির মুখেও সরকারি সহায়তা বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হয় হাওয় এলাকায়। পাশাপাশি জুড়ী, কণ্ঠিনালা, গোগালিছড়া ও ফানাই নদী দিয়ে উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসে। পর দিন শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই হাওরের উগলা ও হাসইরডিবি বিলে পানি প্রবেশ শুরু করে। দুপুরের মধ্যেই তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ ধানখেত। মাঝে পানি কমার আভাস মিললেও গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, চলতি বছর উপজেলার হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় ৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে পানি উঠেছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে। এতে ফসলের ক্ষতি সীমিত হবে বলে তিনি মনের করেন।
তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। হাওরপাড়ের কৃষকেরা বলছেন, গত কয়েক দিনের ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে তারা আতঙ্কে আছেন। পানি বাড়ায় অনেকেই কাঁচা বা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ পশুখাদ্য হিসেবে ধান তুলছেন, আবার কেউ পানিতে নেমে ভেসে থাকা ধান রক্ষার শেষ চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, হাওর এলাকায় বছরের এই সময় বৃষ্টি, উজানের ঢল ও আগাম বন্যার ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। এর যেকোনো একটি ঘটলেই সর্বনাশ হয়ে যায় কৃষকের।

বুধবার হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমি পানিতে নিমজ্জিত। কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন, কোথাও ভেসে থাকা ফসল তুলতে প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
জেলার পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, হাওরাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির জন্য শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী। নদী ও হাওরের পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে কৃষি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খনন, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, স্লুইস গেট সচল রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় প্রায় ২০ হেক্টর বোরো ধান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলার উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। জেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সাধ্য মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা প্রদান করা হবে।’
.png)

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় কৃষকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
১৫ মিনিট আগে
ঢাকায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা পালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার রথযাত্রা শুরু হয়।
২৭ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩৪ মিনিট আগে
দেশে কোনো জঙ্গিবাদী তৎপরতা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে সারা দেশে কালেমাখচিত পতাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে