২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়। স্ট্রিম ছবি

মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও চিন্তক আহমদ ছফার দেহাবশেষ মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ জুলাই) পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহাবশেষ মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে সেখানে নেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। কবর স্থানান্তর নিয়ে স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আহমদ ছফার মৃত্যুর ২৫ বছর পূর্তি হতে আর মাত্র ৬ দিন বাকি আছে। তাকে সমাহিত করা উচিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে, যেখানে কাজী নজরুল ইসলামকে সমাহিত করা হয়েছে।’

আহমদ ছফার মৃত্যুর পর তার কবরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘২০০১ সালের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যারা কর্তৃত্বে ছিলেন, তারা আহমদ ছফাকে উপযুক্ত স্থানে কবর দেওয়ার অনুমতি দেননি। ফলে মিরপুরের সাধারণ কবরস্থানে ৯৯ বছরের লিজে তাকে কবর দেওয়া হয়। সেই সময়ে ৩০০ টাকা ফির জায়গায় ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল, যাকে অনেকেই ঘুষ বলে থাকেন।’

কবর স্থানান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। স্ট্রিম ছবি
কবর স্থানান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। স্ট্রিম ছবি

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর, বর্তমান সরকারের অনুমতিক্রমে কোনো প্রকার ঘুষ ছাড়াই উনার কবরটি যথাস্থানে আজ স্থানান্তর হলো।’

কবর স্থানান্তরের ঐতিহাসিক নজির টেনে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো অভূতপূর্ব ঘটনা নয়। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মরদেহ পাকিস্তান থেকে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২৫ বছর পর হলেও একটি ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।’

শেষে তিনি কবর স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

একুশে পদকপ্রাপ্ত আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মারা যান। তখন তাঁকে মিরপুরের সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কবর স্থানান্তরের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে লিখিত আবেদন করেন আহমদ ছফার ভাইয়ের ছেলে সাহিত্যিক নূরুল আনোয়ার।

আবেদনপত্রে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজসেবা—প্রতিটি ক্ষেত্রে যশস্বী লেখক আহমদ ছফার অবদান রয়েছে। কিন্তু আহমদ ছফাকে এ পর্যন্ত সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনের জন্য তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।’

এরপর ১৩ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪তম সভায় লেখক আহমদ ছফার মরদেহ মিরপুর কবরস্থানের সাধারণ অংশ থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী অংশে স্থানান্তর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত