ঈদযাত্রায় নিহত ৪৩৮, বেশি প্রাণঘাতী মোটরসাইকেল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৬: ৩৮
সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ও পরের ১৫ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন। এবারো সবচেয়ে প্রাণঘাতী যান ছিল মোটরসাইকেল।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষায় স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থারও আমূল সংস্কার জরুরি। উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদ্বারত্বের মাধ্যমে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন পর্যায়ক্রমে অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদের পরামর্শ দেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ মে ঈদযাত্রা শুরুর দিন থেকে ৪ জুন কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ৩৯৪টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২ ও আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। একই সময়ে রেলপথে ৩১ দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ ও আহত ৩০ জন। আর নৌপথে ১৭ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ১৬ জন।

গত বছর ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সেই হিসাবে এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সংস্থা জানায়, এবারের ঈদুল আজহায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে চালক ৮০, পরিবহন শ্রমিক ৮৯, পথচারী ৫৯, নারী ৬৪, শিশু ৪৫, শিক্ষার্থী ৬৬ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩ শিক্ষক, ১ চিকিৎসক, ৩ সাংবাদিক, ১ প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক দলের ৪ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারো দুর্ঘটনার শীর্ষে ছিল মোটরসাইকেল। ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫৯ জনের; আহত হয়েছেন ১৮০, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

এতে বলা হয়, মোট দুর্ঘটনার ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ। এছাড়া ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য।

যাত্রী কল্যাণ সংস্থা জানায়, জাতীয় মহাসড়কে অর্ধেকের বেশি বা ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এছাড়া ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, যাত্রী কল্যাণ সংস্থার যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।

সম্পর্কিত