গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর
আবদুল্লাহ কাফি

কারও স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক, কারও প্রকৌশলী। কেউ হতে চেয়েছিল দেশনায়ক। বুলেটে থেমে গেছে সব স্বপ্ন। দুই বছর ধরে তাদের বই-খাতা, হাতঘড়ি কিংবা প্রিয় পোশাকের স্মৃতি হাতড়ে বেঁচে আছেন মা-বাবা। কিন্তু দুই বছরেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এসব শিশু হত্যার বিচার তাঁরা পাননি।
দশম শ্রেণি পড়ুয়া নাঈমা সুলতানা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের চারতলার সেই বাসায় বসে নাঈমার মা আইনুন নাহার স্ট্রিমকে বললেন, ‘আমরা একটি মামলা করেছি। আসামিদের স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তবু অজানা কারণে সন্তান হত্যার বিচার পাচ্ছি না। আমার আর কোনো চাওয়া নেই। মেয়ে হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।’
পরিবার জানায়, নাঈমার বাবা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। বাবার পেশা এবং ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট দেখে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখত নাঈমা। স্বপ্ন বাস্তবায়নে সারথি হয়ে পাশে দাঁড়ায় পরিবার। চাঁদপুর থেকে ঢাকা এসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েকে ভর্তি করান মা-বাবা। তবে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার আগেই থেমে যায় নাঈমার জীবন।
কোটা বাতিলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল জুলাই। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ভীষণ কষ্ট পায় নাঈমা। ওইদিন নিজের ফেসবুকে ‘আন্দোলন হবে এবার রং তুলিতে। কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’ ক্যাপশনে শেকল ভাঙার একটি ছবি পোস্ট দেয় সে। নিজের আঁকা প্রতিবাদী পোস্টারের ভাষা, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ‘তোমরা কে, রাজাকার’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’।

আইনুন নাহারের ভাষ্যে, আবু সাঈদের মৃত্যুর পর কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছিল না নাঈমাকে। যেকোনো মূল্যে সে যোগ দেবে আন্দোলনে। কিন্তু কি হলো? ঘরে আটকে রেখেও মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি বলেন, ‘নাঈমা সব সময় আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলত। আবু সাঈদের কথা বলত। আর বলত আমি যদি আন্দোলনে মারা যাই, তাহলে দুঃখ কর না। শুধু বলবা, আলহামদুলিল্লাহ। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’
আইনুন নাহার বলেন, ‘১৯ জুলাই সারা দিন নাঈমা আমার সঙ্গে বাসায় ছিল। বিকেলের দিকে বারান্দা থেকে কাপড় আনতে যায়। তখন বাসার নিচে আন্দোলন চলছিল। গোলাগুলি হচ্ছিল। ওর পেছন পেছন আমিও বারান্দায় যাই। হঠাৎ দেখলাম বারান্দার রশি থেকে কাপড় নামানোর সময় জানালার গ্রিল ধরে ঢলে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘নাঈমাকে ধরতে গিয়ে দেখি গুলি লেগে মগজ ছিটকে পড়েছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে বারান্দা। আমি কিন্তু গুলির শব্দ পাইনি। গুলিটা এত গভীরে, মনে হয়েছে স্নাইপারের।’

কাঁদতে কাঁদতে আইনুন নাহার বলেন, ‘আমার মেয়েটা ডাক্তার হতে চাইত। বলত, বড় ডাক্তার হয়ে ফ্রিতে গরিব মানুষের চিকিৎসা করব। আমার মেয়েটা মরে গেল, এখন বিচারটা দেখে আমি মরতে চাই।’
২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ৮৫৬ জন। শহীদদের মধ্যে শিশু অন্তত ১৩৩। তাদের অনেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত ছিল। ১৩৩ শিশুর মধ্যে গুলিতে মারা গেছে ১১৭। ফুল হয়ে ফোটার আগেই থেমে গেছে তাদের জীবন।
শহীদ শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আবদুল আহাদ। মাত্র ৪ বছর বয়সে নিজ বাসায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। ওইদিনের ঘটনা স্মরণ করে বাবা আবুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে ভাড়াবাসায় থাকি। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১১তলা ভবনের অষ্টম তলার নিজ বাসায় খেলছিল আহাদ। শুক্রবার হওয়ায় আমিও বাসায় ছিলাম। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে আমি, আহাদ ও তাঁর মা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। আন্দোলনকারীসহ বাসাবাড়ির দিকেও গুলি করছিল অস্ত্রধারীরা। হঠাৎ একটি গুলি আমার আহাদের ডান চোখে লাগে। চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে যায়।
তিনি বলেন, ‘কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিই। পরদিন ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় আমার কলিজার টুকরা।’
আবুল হাসানের আক্ষেপ, দুই বছর কম না। নির্বাচন হলো। নতুন সরকার এল। আমরা এখনো সন্তান হত্যার বিচার পেলাম না। সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচাই চাই।
জুলাই আন্দোলনে আবদুল আহাদ, নাঈমা সুলতানার মতো বাসায় থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে মিরপুরের সাফকাত সামির (১০) ও নারায়ণগঞ্জের রিয়া গোপ (৬)। এসব পরিবার বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
রাজাধানীর হাজারীবাগের গজমহল, জীর্ণ-শীর্ণ বাড়ি। নিচতলায় একটি কক্ষে স্ত্রী ও তিন সন্তানে নিয়ে বসবাস আবদুল মতিনের। কাজ করেন হাজারীবাগের ট্যানারিতে। বড় ছেলে আবদুল মোতালেব ওরফে মুন্না, হাজারীবাগের মনেশ্বর সরকারি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। স্বপ্ন দেখত প্রকৌশলী হবে। ছোট ছোট কাজ নিজে থেকে করত। লাইট, ফ্যান আর মোটর পেলে খুলে দেখত। পরিবারের কেউ নিষেধ করলে বলত, ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে এসব শিখতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের একটি বুলেট থামিয়ে দিয়েছে মোতালেবের জীবন। ভেঙে দিয়েছে মা-বাবার স্বপ্ন। আবদুল মতিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে মোতালেবের মা গ্রামের বাড়ি ছিল। আমি সারা দিন কাজে ব্যস্ত থাকতাম। মোতালেব স্কুলের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে থাকত। বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পেরে ওর মাকে ঢাকায় নিয়ে আসি বুঝিয়ে আন্দোলন থেকে দূরে রাখার জন্য। কিন্তু প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দিত। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট প্রাইভেট শেষে আন্দোলনে যায় মোতালেব। আমি বিকেলে বাসায় ফিরে গোসল করার সময় খবর পাই, মোতালেব গুলিবিদ্ধ হয়ে শিকদার মেডিকেলে।’

তিনি বলেন, ‘শিকদার মেডিকেলে গিয়ে খবর পাই– মোতালেবের লাশ ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আমি দৌড়ে সেখানে যাই, পাইনি। পরে একজন বলল, মোতালেবের লাশ শহীদ মিনারে। সেখানে গিয়ে দেখি– জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা অনেক লাশ। হঠাৎ একটি লাশের পা দেখে বুঝতে পারি, এটা আমার কলিজা মোতালেব। সে শহীদ হয়েছে। আল্লাহ তাঁরে নিয়া গেছে।’
মোতালেবের মা জাহানারা খাতুন স্ট্রিমকে বলেন, ‘মোতালেব ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইত। সব সময় বলত, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মাকে নিয়ে একটা ভালো বাসায় থাকবে। অনেক বড় হবে। কিন্তু কিছুই হইল না। আমার সোনার টুকরা ছেলেটা চলে গেল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকটা ছবি, বই-খাতা আর একটি হাতঘড়ির ভেতর বেঁচে আছে মোতালেব। এগুলো নাড়াচাড়া করে দিন যাই। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’

কারও স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক, কারও প্রকৌশলী। কেউ হতে চেয়েছিল দেশনায়ক। বুলেটে থেমে গেছে সব স্বপ্ন। দুই বছর ধরে তাদের বই-খাতা, হাতঘড়ি কিংবা প্রিয় পোশাকের স্মৃতি হাতড়ে বেঁচে আছেন মা-বাবা। কিন্তু দুই বছরেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এসব শিশু হত্যার বিচার তাঁরা পাননি।
দশম শ্রেণি পড়ুয়া নাঈমা সুলতানা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের চারতলার সেই বাসায় বসে নাঈমার মা আইনুন নাহার স্ট্রিমকে বললেন, ‘আমরা একটি মামলা করেছি। আসামিদের স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তবু অজানা কারণে সন্তান হত্যার বিচার পাচ্ছি না। আমার আর কোনো চাওয়া নেই। মেয়ে হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।’
পরিবার জানায়, নাঈমার বাবা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। বাবার পেশা এবং ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট দেখে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখত নাঈমা। স্বপ্ন বাস্তবায়নে সারথি হয়ে পাশে দাঁড়ায় পরিবার। চাঁদপুর থেকে ঢাকা এসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েকে ভর্তি করান মা-বাবা। তবে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার আগেই থেমে যায় নাঈমার জীবন।
কোটা বাতিলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল জুলাই। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ভীষণ কষ্ট পায় নাঈমা। ওইদিন নিজের ফেসবুকে ‘আন্দোলন হবে এবার রং তুলিতে। কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’ ক্যাপশনে শেকল ভাঙার একটি ছবি পোস্ট দেয় সে। নিজের আঁকা প্রতিবাদী পোস্টারের ভাষা, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ‘তোমরা কে, রাজাকার’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’।

আইনুন নাহারের ভাষ্যে, আবু সাঈদের মৃত্যুর পর কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছিল না নাঈমাকে। যেকোনো মূল্যে সে যোগ দেবে আন্দোলনে। কিন্তু কি হলো? ঘরে আটকে রেখেও মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি বলেন, ‘নাঈমা সব সময় আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলত। আবু সাঈদের কথা বলত। আর বলত আমি যদি আন্দোলনে মারা যাই, তাহলে দুঃখ কর না। শুধু বলবা, আলহামদুলিল্লাহ। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’
আইনুন নাহার বলেন, ‘১৯ জুলাই সারা দিন নাঈমা আমার সঙ্গে বাসায় ছিল। বিকেলের দিকে বারান্দা থেকে কাপড় আনতে যায়। তখন বাসার নিচে আন্দোলন চলছিল। গোলাগুলি হচ্ছিল। ওর পেছন পেছন আমিও বারান্দায় যাই। হঠাৎ দেখলাম বারান্দার রশি থেকে কাপড় নামানোর সময় জানালার গ্রিল ধরে ঢলে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘নাঈমাকে ধরতে গিয়ে দেখি গুলি লেগে মগজ ছিটকে পড়েছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে বারান্দা। আমি কিন্তু গুলির শব্দ পাইনি। গুলিটা এত গভীরে, মনে হয়েছে স্নাইপারের।’

কাঁদতে কাঁদতে আইনুন নাহার বলেন, ‘আমার মেয়েটা ডাক্তার হতে চাইত। বলত, বড় ডাক্তার হয়ে ফ্রিতে গরিব মানুষের চিকিৎসা করব। আমার মেয়েটা মরে গেল, এখন বিচারটা দেখে আমি মরতে চাই।’
২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ৮৫৬ জন। শহীদদের মধ্যে শিশু অন্তত ১৩৩। তাদের অনেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত ছিল। ১৩৩ শিশুর মধ্যে গুলিতে মারা গেছে ১১৭। ফুল হয়ে ফোটার আগেই থেমে গেছে তাদের জীবন।
শহীদ শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আবদুল আহাদ। মাত্র ৪ বছর বয়সে নিজ বাসায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। ওইদিনের ঘটনা স্মরণ করে বাবা আবুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে ভাড়াবাসায় থাকি। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১১তলা ভবনের অষ্টম তলার নিজ বাসায় খেলছিল আহাদ। শুক্রবার হওয়ায় আমিও বাসায় ছিলাম। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে আমি, আহাদ ও তাঁর মা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। আন্দোলনকারীসহ বাসাবাড়ির দিকেও গুলি করছিল অস্ত্রধারীরা। হঠাৎ একটি গুলি আমার আহাদের ডান চোখে লাগে। চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে যায়।
তিনি বলেন, ‘কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিই। পরদিন ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় আমার কলিজার টুকরা।’
আবুল হাসানের আক্ষেপ, দুই বছর কম না। নির্বাচন হলো। নতুন সরকার এল। আমরা এখনো সন্তান হত্যার বিচার পেলাম না। সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচাই চাই।
জুলাই আন্দোলনে আবদুল আহাদ, নাঈমা সুলতানার মতো বাসায় থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে মিরপুরের সাফকাত সামির (১০) ও নারায়ণগঞ্জের রিয়া গোপ (৬)। এসব পরিবার বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
রাজাধানীর হাজারীবাগের গজমহল, জীর্ণ-শীর্ণ বাড়ি। নিচতলায় একটি কক্ষে স্ত্রী ও তিন সন্তানে নিয়ে বসবাস আবদুল মতিনের। কাজ করেন হাজারীবাগের ট্যানারিতে। বড় ছেলে আবদুল মোতালেব ওরফে মুন্না, হাজারীবাগের মনেশ্বর সরকারি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। স্বপ্ন দেখত প্রকৌশলী হবে। ছোট ছোট কাজ নিজে থেকে করত। লাইট, ফ্যান আর মোটর পেলে খুলে দেখত। পরিবারের কেউ নিষেধ করলে বলত, ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে এসব শিখতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের একটি বুলেট থামিয়ে দিয়েছে মোতালেবের জীবন। ভেঙে দিয়েছে মা-বাবার স্বপ্ন। আবদুল মতিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে মোতালেবের মা গ্রামের বাড়ি ছিল। আমি সারা দিন কাজে ব্যস্ত থাকতাম। মোতালেব স্কুলের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে থাকত। বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পেরে ওর মাকে ঢাকায় নিয়ে আসি বুঝিয়ে আন্দোলন থেকে দূরে রাখার জন্য। কিন্তু প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দিত। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট প্রাইভেট শেষে আন্দোলনে যায় মোতালেব। আমি বিকেলে বাসায় ফিরে গোসল করার সময় খবর পাই, মোতালেব গুলিবিদ্ধ হয়ে শিকদার মেডিকেলে।’

তিনি বলেন, ‘শিকদার মেডিকেলে গিয়ে খবর পাই– মোতালেবের লাশ ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আমি দৌড়ে সেখানে যাই, পাইনি। পরে একজন বলল, মোতালেবের লাশ শহীদ মিনারে। সেখানে গিয়ে দেখি– জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা অনেক লাশ। হঠাৎ একটি লাশের পা দেখে বুঝতে পারি, এটা আমার কলিজা মোতালেব। সে শহীদ হয়েছে। আল্লাহ তাঁরে নিয়া গেছে।’
মোতালেবের মা জাহানারা খাতুন স্ট্রিমকে বলেন, ‘মোতালেব ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইত। সব সময় বলত, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মাকে নিয়ে একটা ভালো বাসায় থাকবে। অনেক বড় হবে। কিন্তু কিছুই হইল না। আমার সোনার টুকরা ছেলেটা চলে গেল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকটা ছবি, বই-খাতা আর একটি হাতঘড়ির ভেতর বেঁচে আছে মোতালেব। এগুলো নাড়াচাড়া করে দিন যাই। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’
.png)

আগামী ৫ বছরে শিক্ষা খাতের বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।
১০ ঘণ্টা আগে
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
১০ ঘণ্টা আগে
টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনাও স্থগিত করা হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে