আমরা কোনো বলয়ে যেতে চাই না: মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৫: ৪৪
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্ট্রিম ছবি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যখন খেলা হয় এ দেশের মানুষ বাংলাদেশের পক্ষে চিৎকার করে। আবার ভারতের বিরুদ্ধে খেলা হলেও একইভাবে চিৎকার করে। অর্থাৎ এই দুটো বলয়ের মধ্যে কোনোটাতেই আমরা যেতে চাই না। কারও কাছেই যেতে চাই না। আমরা আমাদের মতো করে দাঁড়াতে চাই।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন৷ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)৷

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এমন একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, যাকে কেউ চিনত না, “অখ্যাত মেজর” বলে বিদ্রুপ করত। যখন গোটা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছিল, যুদ্ধের জন্য তাদের নেতার কাছ থেকে একটা ঘোষণা আসবে, কিন্তু আসল না। তখন দেশের প্রয়োজনে সেই অখ্যাত মেজর চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।’

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি। ভয়াবহতা দেখেছি। সেই কারণেই তাদের কখনই ক্ষমা করতে পারি না। আর সেই কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন অনন্য পুরুষ, ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।’

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে একটা স্বকীয়তা দিয়েছিলেন, পরিচিতি দিয়েছিলেন—আমরা আলাদা। আমরা অন্যদের সঙ্গে এক নই। আমাদের অস্তিত্বটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেটা আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে দেখি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি সবসময় জোর দিয়ে বলি, বিএনপি ইজ এ পার্টি অফ লিবারেল ডেমোক্রেসি। সেই উদার গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা এখানে অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না। বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে জোর দিয়েই দেশটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

জিয়াউর রহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশে রাজনীতি শুরু করেছিলেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নতুন কোনো বিভক্তি না করে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে প্রথমে ফ্রন্ট করেছেন, তারপর জাগদল করেছেন, তারপরে বিএনপি করেছেন। মূল বিষয়টাই ছিল সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি বাংলাদেশকে কারো শত্রু বানাতে চাননি। তিনি সবার সঙ্গে মিত্রতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. মুশতাক খান। মূল বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন আবু রূশদ ও ড. সফিকুর রহমান।

সম্পর্কিত