নারী-শিশু নির্যাতন মামলা

আপিল নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ, কার্যকর ১৪ জুন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৬: ০০
নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (৭ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায়কে বিচারিক ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগে আপিল নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর চলা বিলম্বের অবসান ঘটবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল নিম্ন আদালতের রায়, বিচার বিভাগের ছুটি বাতিল এবং হাইকোর্টের নতুন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের মামলায় বিচারিক আদালতে দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এই রায় চূড়ান্ত নয়। বাংলাদেশে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হয়। কিন্তু মানুষ এই রায় কার্যকর দেখতে পান না বিলম্বের কারণে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রধান বিচারপতি আমাদের বিচারের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন– নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে এই জাতীয় মামলাগুলোর (শিশু রামিসা, আছিয়া এবং রসু খাঁ) শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করবেন, যেটি আগামী ১৪ জুন কার্যকর হবে।

বেঞ্চটি শুধু এই ধরনের মামলার আপিল শুনানির জন্য ‘ডেডিকেটেড’ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে নিয়োজিত আইন কর্মকর্তারা কোনো মামলায় শুনানি মুলতবি (অ্যাডজার্নমেন্ট) চাইবেন না। ছুটির মধ্যেও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা। দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শুধু আলোচিত মামলা নয়, প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সমানভাবে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কোনো একটি মামলা আলোচিত হলেই আমরা তার পেছনে ছুটি। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেকটি অপরাধের দ্রুত বিচার, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ও শাস্তির মুখোমুখি করা। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করবে না।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রত্যাশা– সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় প্রত্যেকটি সংস্থা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন, যেমন তারা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করেছেন।

সম্পর্কিত