
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ইজারার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত জুন মাসে ওই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে মাইকিং করে প্রায় সাত লাখ টাকায় ১২ একর জমি ইজারা বন্দোবস্ত দেয় প্রতিষ্ঠান দু’টির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গ্রামের উন্নয়নের নামে সেখান থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৫ একর জমি সম্প্রতি প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৪ জুন বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ বিঘা জমি ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টাকায় এবং ২৮ জুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বিঘা জমি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। দুটি জমি থেকে মোট আয় হয় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬২৫ টাকা।
স্থানীয়দের দাবি, ইজারা প্রক্রিয়া শেষে টাকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। তখন তারা বেলোয়া গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে টাকা দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইজারার ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা এবং বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইজারার টাকা থেকে আরও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেন নয়ন ও আজমল।
বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের জমির ইজারার টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারী অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের জমি ইজারা থেকে পাওয়া অর্থ সাধারণত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা হয়। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ের টাকা নিয়ে যাওয়ার এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান এবং টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের টাকা গ্রামের লোকজনের কাছেই আছে। পারলে নিউজ করতে বলেন তিনি।
অপর অভিযুক্ত আজমল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কিছু টাকা গ্রামের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হলে তাতে দোষের কিছু নেই। তবে তার কাছে কোনো টাকা নেই।’
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, দুই বিদ্যালয়ের জমি ইজারা থেকে পাওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






