নেপালে বন্যা/অলৌকিক আশা আর ছবির দেয়াল, অপেক্ষার শেষটা অজানা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৪৪
কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের বাইরে বন্যায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে টাঙানো ছবি দেখছেন স্বজনেরা। ছবি: রয়টার্স
কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের বাইরে বন্যায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে টাঙানো ছবি দেখছেন স্বজনেরা। ছবি: রয়টার্স

কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের দেয়ালজুড়ে টাঙানো শত শত ছবি। কোনোটি নিখোঁজ স্বজনের, কোনোটি উদ্ধার হওয়া মরদেহের— যেগুলোর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

প্রতিদিন সেই দেয়ালের সামনে এসে দাঁড়ান সতী সিগদেল। অপেক্ষা করেন, যদি নিখোঁজ কাজিন সুইটি পাইঠানের কোনো খবর পাওয়া যায়।

সতী সিগদেল বলেন, তিন দিন আগে তার ছবি এখানে টাঙিয়েছি। এখনো কোনো খবর পাইনি।

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি। দুর্যোগের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের উদ্ধারের আশা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে উদ্ধার তৎপরতা এখনো চলছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রায় ৯০০ মানুষ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

বুধবার রাতে নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা কয়েকজন মানুষ রাজধানীর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো খুঁটিয়ে দেখছিলেন। কেউ কেউ কাছের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে জানতে চাইছিলেন, তারা নিখোঁজ স্বজনদের নাম শুনেছেন কি না।

স্বজনদের খুঁজতে আসা স্বপ্না নেউপানে বলেন, আমরা একটি অলৌকিক ঘটনার আশায় আছি।

তার মামার পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। তিনি বলেন, হাজার হাজার ছবির দিকে তাকিয়ে এই দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুব কঠিন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের কিছু ছবি বিস্তারিত তথ্য ও যোগাযোগের নম্বরসহ দেয়ালে টাঙানো হয়েছে। আবার কিছু ছবির নিচে লেখা হয়েছে বিভিন্ন তথ্য।

একটি ছবির ওপরে বড় করে লেখা ‘নিখোঁজ’। ছবিতে দেখা যাচ্ছে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা এক দম্পতিকে। আরেকটি এক তরুণের ছবি, সঙ্গে তার বাম হাতের ট্যাটুর ক্লোজআপ। তাকে শনাক্ত করতে এই চিহ্নটি কাজে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দিরে কয়েকটি পরিবার স্বজনদের না পেয়ে তাদের মৃত ধরে শেষকৃত্য পালন করছে। খড় দিয়ে স্বজনদের প্রতিকৃতি বানিয়ে সেগুলো পোড়ানো হচ্ছে।

তাপিন্দ্র প্রসাদ তিমালসিনা তার ২১ বছর বয়সী স্বজন সাবিনের এমনই একটি শেষকৃত্যে অংশ নেন। হিন্দু পুরোহিত প্রার্থনা পড়ার সময় পরিবারের সদস্যরা প্রতিকৃতির ওপর পানি ঢালেন। এরপর তাতে আগুন দেওয়া হয়। সাধারণত মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যেই এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।

তাপিন্দ্র প্রসাদ বলেন, এটা আমার হৃদয়ের ওপর অনেক ভার হয়ে আছে।

তবে সতী সিগদেল এখনো আশা ছাড়েননি। সোমবার থেকে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে আসছেন। নিখোঁজ কাজিনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবির দেয়ালের সামনে অপেক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন আমার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসি, কোনো খবর পাওয়ার আশায়।

সূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত