নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১২৮০, নিখোঁজ ৫৬২০

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৪৭
নেপালের নুওয়াকোটের ত্রিশূলিতে আকস্মিক বন্যার পর ড্রোন ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে কাদায় নিমজ্জিত ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞ। সংগৃহীত ছবি
নেপালের নুওয়াকোটের ত্রিশূলিতে আকস্মিক বন্যার পর ড্রোন ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে কাদায় নিমজ্জিত ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞ। সংগৃহীত ছবি

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,২৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৬২০ জনের বেশি।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১,২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।

চীনের তিব্বতে বন্যায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালে ২১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মীকে কাজে নামানো হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিখোঁজ স্বজনদের প্রতীকী শেষকৃত্য করছেন পরিবারের সদস্যরা।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জেলা চিতওয়ানে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি— এমন মরদেহগুলো দাফন করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বিপুলসংখ্যক মরদেহের কারণে একেকটি মরদেহ আলাদাভাবে শনাক্ত ও সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

বন্যার পানিতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ঘরবাড়িও ভেসে যাওয়ায় অনেক মানুষ শোক পালনের জায়গাটুকুও হারিয়েছেন। সবকিছু হারিয়ে আশ্রয়ের জন্য কাঠমান্ডুতে আসা অনেক মানুষও সরকারি স্থাপনাগুলোতে ধর্মীয় আচার পালনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবারও নেপালের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা এখনো ব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজে নানা সমস্যা হচ্ছে।

উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।

গত ২৬ আগস্ট এই ভয়াবহ দুর্যোগের শুরু। ওই দিন নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ে। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নামে। পরে তা স্রোতে পরিণত হয়ে সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে আসে।

বন্যার পানি ও কাদার স্রোতে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা এবং কাঠমান্ডু উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে চীনেও। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্তপথ ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে। জিজাং অঞ্চলটি তিব্বত নামেও পরিচিত।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত