রাজশাহীতে দুই মাসে দ্বিগুণ এডিস লার্ভা, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজশাহীতে দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে দ্বিগুণ। একই সময়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও। এতে নগরজুড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কোনো এলাকায় এডিস মশার প্রজননঘনত্ব বোঝার একটি কীটতাত্ত্বিক সূচকের নাম ব্রেটো সূচক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক কীটতাত্ত্বিক জরিপে নগরের পাঁচটি এলাকায় ব্রেটো সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩। গত মে মাসে একই এলাকায় এ সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ দুই মাসে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব দ্বিগুণ হয়েছে।

গত ৩ থেকে ১০ আগস্ট নগরের কাজিহাটা, চণ্ডিপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকায় এ জরিপ চালানো হয়। ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ সময় ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্র পরীক্ষা করে ৪৬টিতেই এডিসের লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

জরিপে বিভিন্ন প্রজননস্থল থেকে ৬৮৫টি মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস এবং ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি। বাকি ৯৪টি ছিল অন্য প্রজাতির মশার লার্ভা।

ফুলদানি, প্লাস্টিক ও সিরামিকের টব, মাটি ও টিনের পাত্র, নারকেলের খোসা, সিমেন্টের টব, ড্রাম, জলমগ্ন মেঝে, রঙের বালতি ও প্লাস্টিকের বালতিতেো পাওয়া গেছে লার্ভা।

এডিস মশার প্রজননের উচ্চ ঘনত্ব বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোন এলাকায় ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটি ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি জানান, সর্বশেষ জরিপে রাজশাহীর সূচক ৬১ দশমিক ৩৩ হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শুধু মশার প্রজনন নয়, রাজশাহীর হাসপাতালেগুলোতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০ জুলাই এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে।

আগস্টে রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ৬ আগস্ট হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ১৩ জন। ৮ আগস্ট ২৩ জন, ৯ আগস্ট ২৬ জন এবং ১০ আগস্ট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩০ জন হয়। গত ১৫ আগস্ট সর্বোচ্চ ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এরপর ১৬ আগস্ট ২৭ জন, ১৭ আগস্ট ২৫ জন এবং ১৮ আগস্ট ৩২ জন রোগী ছিলেন। সর্বশেষ বুধবার (১৯ আগস্ট) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ২৮ জন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, গত ১১ আগস্ট হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে রোগীর চাপ কিছুটা বাড়ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা দিতে হাসপাতালের প্রস্তুতি রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে এর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

রাজশাহীতে দুই মাসে দ্বিগুণ এডিস লার্ভা, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী