এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

টানা তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে কাটানোর পর অবশেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর মেয়াদের অবসান ঘটে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ এই পদে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মেয়াদের আগেই তাঁকে বিদায় নিতে হলো।
মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতিকালীন সময়টা ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল অধ্যায়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় বছরের মাথায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, সংসদ বিলুপ্তিসহ রাষ্ট্রের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁকে সই করতে হয়। সে সময় বঙ্গভবন ঘেরাও করে তাঁর পদত্যাগের জোর দাবি উঠলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁকে স্বপদে বহাল রাখে।
অবশ্য গত বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে দাঁড়াতে চান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলেও তারা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি। তবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাঁর ভাষণের সময় জামায়াত-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
১৯৭৫ সালের ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে বা পদত্যাগের পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে শর্ত হলো, তাঁকে অন্তত ছয় মাস এই পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মো. সাহাবুদ্দিন যেহেতু তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তিনি আইনের সব সুবিধাই প্রাপ্য হবেন।
মাসিক ভাতা: আইন অনুযায়ী, অবসরের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি তাঁর সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে আমৃত্যু পেনশন পাবেন। রাষ্ট্রপতির বর্তমান মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হওয়ায় মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা করে অবসর ভাতা পাবেন। তবে তিনি যদি তাঁর আগের কোনো পেশার কারণে পেনশন পেয়ে থাকেন, তবে তাঁকে যেকোনো একটি ভাতা বেছে নিতে হবে।
পারিবারিক সুবিধা: সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তাঁর স্ত্রী (বা ক্ষেত্রবিশেষে স্বামী) আমৃত্যু মূল অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে মাসিক ভাতা পাবেন।
এককালীন অর্থ (আনুতোষিক): চাইলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থও নিতে পারবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তবে এ জন্য অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময়কালের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ হিসাব করা হয়। যদি এককালীন অর্থ নেওয়ার আবেদন করার আগেই তিনি মারা যান, তবে তাঁর উত্তরাধিকারীরা এই অর্থ পাবেন।
কর্মকর্তা ও দাপ্তরিক খরচ: দাপ্তরিক কাজের জন্য সরকারি খরচে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেনডেন্ট) পাবেন। এর পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাঁর দাপ্তরিক খরচও রাষ্ট্র বহন করবে।
চিকিৎসা, যাতায়াত ও আবাসন: একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী যে মানের চিকিৎসাসুবিধা পান, সাবেক রাষ্ট্রপতিও ঠিক একই সুবিধা পাবেন। সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে তিনি বিনামূল্যে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া নিজ বাসভবনে একটি টেলিফোন সংযোগ পাবেন, যার বিল একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সরকার পরিশোধ করবে।
ভিআইপি সুবিধা: সাবেক রাষ্ট্রপতিরা একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট (ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট) পান। দেশের ভেতরে ভ্রমণের সময় বিনা খরচে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে থাকার সুবিধাও পাবেন তিনি। উল্লেখ্য, চিকিৎসা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার এই সুবিধাগুলো তাঁর স্ত্রীও ভোগ করবেন।
আইনে কিছু নির্দিষ্ট শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে এসব সুবিধা বাতিল হতে পারে। যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সরকারি কোষাগার থেকে বেতনভুক্ত অন্য কোনো চাকরিতে যোগ দেন, তবে তিনি এই অবসর সুবিধা পাবেন না। এছাড়া যদি কোনো আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনের দায়ে তিনি দণ্ডিত হন, অথবা উচ্চ আদালত যদি প্রমাণ করে যে তিনি অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেছিলেন, তবে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হবে।

টানা তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে কাটানোর পর অবশেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর মেয়াদের অবসান ঘটে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ এই পদে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মেয়াদের আগেই তাঁকে বিদায় নিতে হলো।
মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতিকালীন সময়টা ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল অধ্যায়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় বছরের মাথায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, সংসদ বিলুপ্তিসহ রাষ্ট্রের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁকে সই করতে হয়। সে সময় বঙ্গভবন ঘেরাও করে তাঁর পদত্যাগের জোর দাবি উঠলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁকে স্বপদে বহাল রাখে।
অবশ্য গত বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে দাঁড়াতে চান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলেও তারা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি। তবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাঁর ভাষণের সময় জামায়াত-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
১৯৭৫ সালের ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে বা পদত্যাগের পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে শর্ত হলো, তাঁকে অন্তত ছয় মাস এই পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মো. সাহাবুদ্দিন যেহেতু তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তিনি আইনের সব সুবিধাই প্রাপ্য হবেন।
মাসিক ভাতা: আইন অনুযায়ী, অবসরের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি তাঁর সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে আমৃত্যু পেনশন পাবেন। রাষ্ট্রপতির বর্তমান মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হওয়ায় মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা করে অবসর ভাতা পাবেন। তবে তিনি যদি তাঁর আগের কোনো পেশার কারণে পেনশন পেয়ে থাকেন, তবে তাঁকে যেকোনো একটি ভাতা বেছে নিতে হবে।
পারিবারিক সুবিধা: সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তাঁর স্ত্রী (বা ক্ষেত্রবিশেষে স্বামী) আমৃত্যু মূল অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে মাসিক ভাতা পাবেন।
এককালীন অর্থ (আনুতোষিক): চাইলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থও নিতে পারবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তবে এ জন্য অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময়কালের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ হিসাব করা হয়। যদি এককালীন অর্থ নেওয়ার আবেদন করার আগেই তিনি মারা যান, তবে তাঁর উত্তরাধিকারীরা এই অর্থ পাবেন।
কর্মকর্তা ও দাপ্তরিক খরচ: দাপ্তরিক কাজের জন্য সরকারি খরচে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেনডেন্ট) পাবেন। এর পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাঁর দাপ্তরিক খরচও রাষ্ট্র বহন করবে।
চিকিৎসা, যাতায়াত ও আবাসন: একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী যে মানের চিকিৎসাসুবিধা পান, সাবেক রাষ্ট্রপতিও ঠিক একই সুবিধা পাবেন। সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে তিনি বিনামূল্যে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া নিজ বাসভবনে একটি টেলিফোন সংযোগ পাবেন, যার বিল একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সরকার পরিশোধ করবে।
ভিআইপি সুবিধা: সাবেক রাষ্ট্রপতিরা একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট (ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট) পান। দেশের ভেতরে ভ্রমণের সময় বিনা খরচে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে থাকার সুবিধাও পাবেন তিনি। উল্লেখ্য, চিকিৎসা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার এই সুবিধাগুলো তাঁর স্ত্রীও ভোগ করবেন।
আইনে কিছু নির্দিষ্ট শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে এসব সুবিধা বাতিল হতে পারে। যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সরকারি কোষাগার থেকে বেতনভুক্ত অন্য কোনো চাকরিতে যোগ দেন, তবে তিনি এই অবসর সুবিধা পাবেন না। এছাড়া যদি কোনো আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনের দায়ে তিনি দণ্ডিত হন, অথবা উচ্চ আদালত যদি প্রমাণ করে যে তিনি অসাংবিধানিক বা অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেছিলেন, তবে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হবে।
.png)

গত কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রপতির চেয়ার ছেড়ে দিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরে এরই মধ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্পিকার।
১ ঘণ্টা আগে
প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু আরেকটি মৌসুমি আবহাওয়ার ঘটনা নয়; আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি বাজার ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
২৩ জুলাই ২০২৬
প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট নিয়ে বৈশ্বিক র্যাংকিং প্রকাশিত হয়। কোথাও বলা হয়, সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী, আবার কোথাও দেখা যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত শীর্ষে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থানও বিভিন্ন সূচকে কিছুটা ভিন্ন দেখা যায়।
২৩ জুলাই ২০২৬
কোনো জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে জনগণের পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি আসে সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ বা বহিস্কারের জন্য। তবে শুধু নৈতিক স্খলনের অভিযোগে কি একজন সংসদ সদস্য (এমপি) তাঁর পদ হারাতে পারেন?
২২ জুলাই ২০২৬