জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বাংলা একাডেমির ৩ বইয়ের পাঠ-পর্যালোচনা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২৩: ১৬
বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে তিনটি বইয়ের পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ট্রিম ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও তাৎপর্যকে ধারণ করে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত তিনটি বইয়ের পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক ও সচিব সমীর কুমার সরকার।

স্বাগত বক্তব্যে সমীর কুমার সরকার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি অনন্য অধ্যায় এবং জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফসল। আমাদের লেখক ও গবেষকদের শৈল্পিক কলমে এই আন্দোলনের যে বহুমাত্রিক রূপ ফুটে উঠেছে, তা জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে তিনটি ভিন্ন আঙ্গিকের বই নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট বইয়ের সম্পাদকেরা। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রবন্ধ’ গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ। তিনি বলেন, ‘প্রবন্ধগুলোতে নানামাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই অভ্যুত্থানকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গল্প’ গ্রন্থের ওপর আলোকপাত করেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন শফিক। তিনি বলেন, ‘এই সংকলনের গল্পগুলো কেবল সাহিত্য নয়, বরং এগুলো জুলাইয়ের উত্তাল সময়ের সত্য ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি।’

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছড়া’ গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন শিশুসাহিত্যিক আবিদ আজম। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালীন ছড়া, গান ও স্লোগানগুলো স্ফুলিঙ্গের মতো ছাত্র-জনতাকে উজ্জীবিত করেছিল। এই সংকলনে সেই প্রেরণাদায়ী সৃষ্টিগুলোকে মলাটবন্দী করা হয়েছে।’

বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও গবেষক শিবলী আজাদ এবং কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তুহিন খান। তারা অভিমত প্রকাশ করেন যে এই সংকলনগুলো ইতিহাসের অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি এই অভ্যুত্থানের আর্থসামাজিক কারণগুলো নিয়েও আরও বিচার-বিশ্লেষণ হওয়া জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত এই তিনটি সংকলন কেবল আন্দোলনের ঘটনাক্রম নয়, বরং এর রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমিও সার্থকভাবে তুলে ধরেছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত