বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করে গঠিত হচ্ছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৩১
বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করতে সংসদে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করে দেশের নতুন শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে এই নতুন সংস্থা গঠন করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিডা।

সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখ থেকে আইনটি কার্যকর হবে। একই সময়ে নতুন পরিচয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনটি কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন দেশের কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চল ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কার্যক্রমকে একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আনতে হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি সমন্বিত বিনিয়োগ সংস্থার সুপারিশ করে আসছেন। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশ সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেও এই একীভূতকরণের সুপারিশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের আরও কার্যকর সেবা দিতে সক্ষম হবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও শক্তভাবে তুলে ধরবে।’

সরকারের ২০২৬ সালের মার্চে ঘোষিত ১৮০ দিনের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিলটি পাস হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি জোরদার হবে।

নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবাগুলো আরও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সব সেবাকে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

বিলে ঘোষিত শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণ, পিপিপি প্রকল্প অনুমোদনের কাঠামো স্পষ্ট করা, ছোট পিপিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে সহজ অনুমোদনের সুযোগ, অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সব সেবাকে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারের মতে, নতুন আইন বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে নীতিগত অসামঞ্জস্যতা কমাবে, বিভিন্ন সংস্থার কার্যপরিধির দ্বৈততা ও পুনরাবৃত্তি দূর করবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন ২০১৫ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইন ২০১৮ বাতিল হবে। এসব আইনের অধীন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যপরিধি নতুন সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশের আওতায় একীভূত হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত