মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১৬: ৫০
এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন। স্ট্রিম ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার (৬ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রুল জারির পর আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন না। তবে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বৈধ দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, মনিরা শারমিন কৃষি ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী তিন মাসের বেতন জমা দিয়ে তাঁর চাকরির অবসান ঘটিয়েছেন। সুতরাং চাকরি থেকে তাঁর এই ইস্তফা দেওয়া আরপিওর ওই বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে না। নির্বাচন কমিশন বেআইনিভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে।

আদালতের আদেশের পর সুপ্রিম কোোর্ট প্রাঙ্গণে মনিরা শারমিন আইনের অস্পষ্টতা ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, 'আইনটি মূলত আমলা, আইজিপি বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য তৈরি হয়েছিল; যারা তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার আগেই নির্বাচন করলে ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দিতে পারেন। কিন্তু একটি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তার পক্ষে কোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার সক্ষমতা থাকে না।'

সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগকে ‘অসম্ভব’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকে না; তাঁদের ভোটার হলেন ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যরা। সুতরাং আমার ওপর আরপিওর এই ধারাটি কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।'

মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন মনিরা শারমিন। তবে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনও তাঁর আপিল খারিজ করে দেয়। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।

গত সোমবার রিটটি শুনানির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে ওই বেঞ্চের এক বিচারপতির এবং রিটকারীর বাড়ি একই গ্রামে হওয়ায় আদালত রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে রিটকারী আইনজীবীরা বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে বিষয়টি নজরে আনলে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে আদালত এই রুল জারি করলেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত