ধামরাইয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৮: ১৯
নিহত পিতাকে ধরে সন্তানের আহাজারি

ঢাকার ধামরাইয়ে ফিরোজ কবির (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে তর্কের জেরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুন নালাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের দাবি, ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুন নালাই এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৩) এবং একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে শাহিন এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

নিহত ফিরোজ কবির ধামরাইয়ের অর্জুন নালাই এলাকার আলহাজ্জ্ব উদ্দিনের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতির চেষ্টাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। তিনি সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে জানিয়েছে ধামরাই থানা-পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মাদক ব্যবসার অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সম্প্রতি ফিরোজ কবির মাদক মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পান। শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হলে তাঁদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ওই দুই ব্যক্তি। এরপরই তাঁরা পালিয়ে যান।

এ সময় আহত অবস্থায় ফিরোজ কবিরকে প্রথমে কাওয়ালীপাড়ার একটি হাসপাতালে এবং পরে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পথিমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে বলেন, ‘শাহীনরা এলাকায় হেরোইন খায়, বিক্রি করে। লোকজনকে ছুরির মুখে জিনিসপত্র রেখে দেয়। আজকে জহিরুল তার পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া করেছিল মাদকের টাকার জন্য। তার কাছে ছ্যান ছিল। আমার আব্বু সাটুরিয়া থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিল। ওদের বাড়ি পার হওয়ার আগেই জহিরুল ছ্যান ও শাহীন চাপাতি নিয়ে এসে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। ওদের সঙ্গে আগের কোনো ঝগড়া বা কথা-কাটাকাটি ছিল না। যারা মারছে, তাদের সঠিক শাস্তি চাই।’

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘মাদক ব্যবসা নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ ছিল। বিগত চার-পাঁচ দিন আগেই ওই ব্যক্তি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসে। আজ তাদের দেখা হলে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যে আসামি ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।’

সম্পর্কিত