ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান

সাজানো বিয়ের ভিডিওকে সত্য দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিদ্বেষ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ২৫
এআই জেনারেটেড ছবি

বাংলাদেশে মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবিতে কিছু সাজানো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। বিনোদনের জন্য বানানো এসব ভিডিও সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উসকানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য যাচাইকারী গবেষণা সংস্থা ডিসমিসল্যাবের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত চারটি ভিডিও একাধিক দেশে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর গল্প প্রায় একই রকম—যেখানে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির সঙ্গে তরুণী বা কিশোরীর জোরপূর্বক বিয়ে দেখানো হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিডিওগুলো বাংলাদেশের বাস্তব ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাব নিশ্চিত হয়েছে যে, এই ভিডিওগুলোর কোনোটিই বাস্তব নয়; বরং অভিনেতাদের দিয়ে তৈরি নাটক।

এই অপপ্রচারের উৎস খুঁজতে গিয়ে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে পাকিস্তানি অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মাহমুদের নাম। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি এক্সে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, বাংলাদেশে এক মেয়ে তার বৃদ্ধ স্বামীকে দেখে জ্ঞান হারিয়েছেন। ভিডিওটি ৩৫ লাখের বেশি বার দেখা হয়। পরে ভারত, কেনিয়া, মিশর ও তুরস্কের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

এই সাজানো নাটকগুলো সাম্প্রদায়িক উসকানির কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতভিত্তিক ‘হিন্দু ভয়েস’ ও বিভিন্ন জাপানি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওগুলোকে ‘নিকাহ হালালা’ বা ‘ইসলামে নারী ক্ষমতায়ন’ লিখে বিদ্রূপাত্মক ক্যাপশনে প্রচার করা হয়েছে। এমনকি ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজ, ইন্ডিয়া ডট কম এবং পাঞ্জাব কেশরী ভিডিওগুলোকে সত্য ঘটনা ধরে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এমনকি বাংলাদেশের কিছু নিউজ পোর্টালও এই নাটকগুলোকে বাস্তব সংবাদ হিসেবে প্রচার করেছে।

এই ভিডিওগুলোর মূল উৎস হলো ‘ওয়েডিং স্টুডিও’ নামক একটি ফেসবুক পেজ। ১২ লাখেরও বেশি ফলোয়ারের এই পেজ তিনজন অ্যাডমিন পরিচালনা করেন। যদিও পেজের বায়োতে লেখা ভিডিওগুলো কেবল বিনোদনের জন্য, তবুও ক্রমাগত একই ধরনের চিত্রনাট্যের ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে।

ডিসমিসল্যাব এই পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি। মূলত মুনাফা ও ভিউ পাওয়ার নেশায় তৈরি এই নাটকগুলো এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য চরম নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে।

সম্পর্কিত