ঘুমানোর আগে অতীতের ভুল মনে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজেরই অংশ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
কাজী নিশাত তাবাসসুম

কর্মব্যস্ত জীবনে কাজের মাঝে আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবার বা আত্মকথনের খুব একটা সময় পাই না। কিন্তু রাত যত গভীর হয়, চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে আসে তখন হঠাৎ করেই আমাদের অনেকের মনে পড়ে যায় পুরোনো ভুলগুলো। অস্বস্তিকর স্মৃতি কিংবা অনুশোচনার মুহূর্তও মনে পড়ে।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়? এটা কি মানসিক অভ্যাস? নাকি এর পেছনে আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা? চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক।
মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণার সারাংশ হলো, ঘুমানোর আগে অতীতের ভুল মনে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজেরই অংশ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দিনের বেলায় আমাদের মস্তিষ্ক নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাতের বেলায়, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এই বাহ্যিক উদ্দীপনা কমে যায়। ফলে মস্তিষ্ক তখন ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ (ডিএমএন)-এ প্রবেশ করে। যেখানে আমরা নিজের ভেতরের চিন্তা, স্মৃতি ও অনুভূতির দিকে বেশি মনোযোগ দিই।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী দানিয়েল গিলবার্ট গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানুষ যখন অলস সময় পার করে, তখন মন স্বাভাবিকভাবেই অতীত বা ভবিষ্যতের দিকে ঘোরে। একে ‘মাইন্ড-ওয়ান্ডারিং’ বা চিন্তার ঘোরাঘুরি বলে। রাতের নিরিবিলি সময়ে এই প্রবণতা আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে পারে।

এমন ঘটনার সঙ্গে হরমোনের প্রভাবও জড়িত। কারণ রাতে আমাদের শরীরে ‘কর্টিসল’ (মানসিক চাপের হরমোন) এবং ‘মেলাটোনিন’-এর মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। এই হরমোনের পরিবর্তন আবেগ ও চিন্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। আর আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রাতের বেলা আমাদের আবেগকে কিছুটা বেশি সক্রিয় করে তোলে, যা ‘মিডনাইট ব্লুজ’ নামেও পরিচিত।
আমাদের মস্তিষ্কের একটি বৈশিষ্ট্য হলো ইতিবাচক ঘটনার চেয়ে নেতিবাচক ঘটনা বা অভিজ্ঞতা বেশি মনে রাখা। যাকে স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নেগেটিভ বায়াস’।
কানাডার গবেষক রিক হ্যানসনের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক সক্রিয় অবস্থায় নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে ভবিষ্যতে একই ভুল এড়ানো যায়। ফলে নিরিবিলি পরিবেশে নেতিবাচক স্মৃতিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি মনে পড়তে পারে।
স্নায়ুবিজ্ঞানে বলা হয়, ঘুমের আগে এবং ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতিগুলোকে সাজিয়ে নেয়। একে বলা হয় ‘মেমরি কনসোলিডেশন’। ২০১৯ সালে নেচার নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনের অভিজ্ঞতাগুলো রাতে পুনরায় সক্রিয় হয় এবং মস্তিষ্ক সেগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় পুরোনো ভুল বা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাও সামনে চলে আসে।
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভুলগুলোই বেশি মনে পড়ার সঙ্গে আলো-আঁধারের সম্পর্ক রয়েছে। কম আলো বা অন্ধকার পরিবেশে মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি অন্তর্মুখী হয়ে পড়ে। জার্নাল অব ইনভায়রনমেন্টাল সাইকোলজির প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে অল্প আলো বা নিরিবিলি পরিবেশ আত্মবিশ্লেষণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে আমরা আবার দিনের শেষে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকি। এই ক্লান্তি আমাদের ‘কগনিটিভ কন্ট্রোল’ বা চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে আমরা সহজেই নেতিবাচক চিন্তার দিকে ঝুঁকে পড়ি। আমেরিকার সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লান্ত অবস্থায় মানুষ তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে কম সক্ষম হয়। এটা রাতের সময় অতীতের ভুল নিয়ে ভাবার প্রবণতা বাড়ায়।
রাতে পুরোনো ভুল মনে পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, বই পড়া, মেডিটেশন করা, ডায়েরি লেখা, নিজের ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে দেখা ইত্যাদি। এগুলো কিছুটা হলেও রুমিনেশন বা চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
তবে মনে রাখতে হবে, রাতের নিরিবিলি সময়ে পুরোনো ভুল মনে পড়া অনেক ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। আলো-আঁধারের পরিবর্তন, হরমোনের প্রভাব, স্মৃতির পুনর্গঠন মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে। তাই স্মৃতিগুলোকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখলে সেগুলো নিয়ে অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।

কর্মব্যস্ত জীবনে কাজের মাঝে আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবার বা আত্মকথনের খুব একটা সময় পাই না। কিন্তু রাত যত গভীর হয়, চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে আসে তখন হঠাৎ করেই আমাদের অনেকের মনে পড়ে যায় পুরোনো ভুলগুলো। অস্বস্তিকর স্মৃতি কিংবা অনুশোচনার মুহূর্তও মনে পড়ে।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়? এটা কি মানসিক অভ্যাস? নাকি এর পেছনে আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা? চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক।
মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণার সারাংশ হলো, ঘুমানোর আগে অতীতের ভুল মনে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজেরই অংশ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দিনের বেলায় আমাদের মস্তিষ্ক নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাতের বেলায়, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এই বাহ্যিক উদ্দীপনা কমে যায়। ফলে মস্তিষ্ক তখন ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ (ডিএমএন)-এ প্রবেশ করে। যেখানে আমরা নিজের ভেতরের চিন্তা, স্মৃতি ও অনুভূতির দিকে বেশি মনোযোগ দিই।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী দানিয়েল গিলবার্ট গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানুষ যখন অলস সময় পার করে, তখন মন স্বাভাবিকভাবেই অতীত বা ভবিষ্যতের দিকে ঘোরে। একে ‘মাইন্ড-ওয়ান্ডারিং’ বা চিন্তার ঘোরাঘুরি বলে। রাতের নিরিবিলি সময়ে এই প্রবণতা আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে পারে।

এমন ঘটনার সঙ্গে হরমোনের প্রভাবও জড়িত। কারণ রাতে আমাদের শরীরে ‘কর্টিসল’ (মানসিক চাপের হরমোন) এবং ‘মেলাটোনিন’-এর মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। এই হরমোনের পরিবর্তন আবেগ ও চিন্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। আর আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রাতের বেলা আমাদের আবেগকে কিছুটা বেশি সক্রিয় করে তোলে, যা ‘মিডনাইট ব্লুজ’ নামেও পরিচিত।
আমাদের মস্তিষ্কের একটি বৈশিষ্ট্য হলো ইতিবাচক ঘটনার চেয়ে নেতিবাচক ঘটনা বা অভিজ্ঞতা বেশি মনে রাখা। যাকে স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নেগেটিভ বায়াস’।
কানাডার গবেষক রিক হ্যানসনের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক সক্রিয় অবস্থায় নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে ভবিষ্যতে একই ভুল এড়ানো যায়। ফলে নিরিবিলি পরিবেশে নেতিবাচক স্মৃতিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি মনে পড়তে পারে।
স্নায়ুবিজ্ঞানে বলা হয়, ঘুমের আগে এবং ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতিগুলোকে সাজিয়ে নেয়। একে বলা হয় ‘মেমরি কনসোলিডেশন’। ২০১৯ সালে নেচার নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনের অভিজ্ঞতাগুলো রাতে পুনরায় সক্রিয় হয় এবং মস্তিষ্ক সেগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় পুরোনো ভুল বা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাও সামনে চলে আসে।
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভুলগুলোই বেশি মনে পড়ার সঙ্গে আলো-আঁধারের সম্পর্ক রয়েছে। কম আলো বা অন্ধকার পরিবেশে মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি অন্তর্মুখী হয়ে পড়ে। জার্নাল অব ইনভায়রনমেন্টাল সাইকোলজির প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে অল্প আলো বা নিরিবিলি পরিবেশ আত্মবিশ্লেষণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে আমরা আবার দিনের শেষে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকি। এই ক্লান্তি আমাদের ‘কগনিটিভ কন্ট্রোল’ বা চিন্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে আমরা সহজেই নেতিবাচক চিন্তার দিকে ঝুঁকে পড়ি। আমেরিকার সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লান্ত অবস্থায় মানুষ তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে কম সক্ষম হয়। এটা রাতের সময় অতীতের ভুল নিয়ে ভাবার প্রবণতা বাড়ায়।
রাতে পুরোনো ভুল মনে পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, বই পড়া, মেডিটেশন করা, ডায়েরি লেখা, নিজের ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে দেখা ইত্যাদি। এগুলো কিছুটা হলেও রুমিনেশন বা চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
তবে মনে রাখতে হবে, রাতের নিরিবিলি সময়ে পুরোনো ভুল মনে পড়া অনেক ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। আলো-আঁধারের পরিবর্তন, হরমোনের প্রভাব, স্মৃতির পুনর্গঠন মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে। তাই স্মৃতিগুলোকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখলে সেগুলো নিয়ে অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
.png)

শিল্পপ্রেমীদের কাছে ‘চিত্রার লাল মিয়া’ নামে পরিচিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন আজ (১০ আগস্ট)। তাঁর তুলিতে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও জীবনগাথা উঠে এসেছিল এক অনন্য উচ্চতায়। সেই শিল্পকর্মগুলো কোথায়, কেমন আছে এখন?
৩ ঘণ্টা আগে
অলসতার জন্যও যে একটা দিন থাকতে পারে, তা শুনে হয়তো অবাক লাগছে! সারাদিন কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর ‘প্রোডাক্টিভ’ থাকার দৌড়ে আমরা বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপরাধ মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সব অলসতা খারাপ? বরং কিছু অভ্যাস, যেগুলোকে আমরা অলসতা ভাবি, সেগুলোই হতে পারে বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত।
৩ ঘণ্টা আগে
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি ও স্কাল্পচার পার্ক। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর চতুর্থ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোববার বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে
০৯ আগস্ট ২০২৬