তৌফিক হাসান

টাকা পরিশোধ ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় দুই হাজার প্রবাসী ও তাদের পরিবার। এ জন্য জীবন বীমা করপোরেশনকে দায়ী করছে কল্যাণ বোর্ড।
বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ছয় মাসের মধ্যে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের জন্য এই বিমা সুবিধা বরাদ্দ রয়েছে। তবে জীবন বীমা করপোরেশন গত এপ্রিল মাস থেকে দাবি করা প্রায় ৬৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বিমা বকেয়া রেখেছে বলে অভিযোগ বোর্ডের। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ও তাদের পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যার দায়ভার দিনশেষে বোর্ডের ওপর পড়ছে।
এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জীবন বীমার কাছে প্রবাসীদের কিছু অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে। এই অর্থগুলো পেয়ে গেলে আমরা প্রবাসীদের বুঝিয়ে দেব।’
তবে জীবন বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড একদিকে প্রিমিয়ামের অর্থ বকেয়া রাখছে, অন্যদিকে তাদের নতুন এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি নেওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করছে। যার কারণে তাদের প্রবাসীর অর্থ পরিশোধে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) মোহাম্মদ আবু কাউসার জলিল বলেন, ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে আমাদের প্রায় ২২ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রিমিয়াম গত ৫ মাস ধরে বকেয়া পড়ে আছে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম তারা এই বকেয়া প্রিমিয়াম পরিশোধ করলে আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে আরও অর্থ যোগ করে দ্রুত ৩০ কোটি টাকার দাবি মিটিয়ে দেব, যা উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কমিয়ে আনবে। কিন্তু তারা এখনো সেটি পরিশোধ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া তারা তাদের নিজস্ব সফটওয়্যার এমআইএস ইন্টারফেসে তথ্য এন্ট্রি দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে। তারা বলছে আমরা যেন তাদের সফটওয়্যারে তথ্য ইনপুট দিই। কিন্তু এটি অযৌক্তিক ও নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে আমরা তাদের একটি চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তারা এখনো কোনো উত্তর দেয়নি।’
জীবন বীমা করপোরেশনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তাদেরও কিছু পেন্ডিং আছে, আমাদেরও কিছু পেন্ডিং আছে। এটি আমরা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করতে পারব বলে আশা করি।’
সফটওয়্যার জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান আসবে বলে আশা করি।’
সফটওয়্যার জটিলতায় ওয়েজ আর্নার্সকে জীবন বীমার চিঠি
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সফটওয়্যার জটিলতা কমাতে এবং জীবন বীমা করপোরেশনকে এর সঙ্গে যুক্ত না করার জন্য গত ২১ জুলাই বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে চিঠি দেয় জীবন বীমার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাঈদ কুতুব।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে পাওয়া দাবি পরিশোধের চিঠি মোতাবেক করপোরেশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে দাবি পরিশোধের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এরপর প্রবাসী কর্মীদের দাবি পরিশোধের তথ্য সম্বলিত অনুমোদিত তথ্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী কর্মীদের বিমাদাবি সংক্রান্ত একটি এমআইএস সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে এবং এই সফটওয়্যারে বিমা দাবি পরিশোধের তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার জন্য জীবন বীমা করপোরেশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এমআইএস সফটওয়্যারে কোনো ডেটা এন্ট্রি করার প্রয়োজন হলে সেটার দায়িত্ব জীবন বীমা করপোরেশনের ওপর বর্তায় না। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি না দেওয়ার কারণে বিমা দাবির অর্থ কর্মীদের প্রদান করা সম্ভব না হলে তার দায় জীবন বীমা করপোরেশন গ্রহণ করবে না।
চিঠির আগে হয় সমন্বয় সভা, মেলেনি সমাধান
প্রবাসীর বিমার জটিলতা যখন প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকে তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি গত ১ জুলাই জীবন বীমা করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই সভা থেকেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে উভয় পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়তই ফাইল পাঠাচ্ছি কিন্তু জীবন বীমা আমাদের অর্থ দিচ্ছে না। এর ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের বর্তমান মহাপরিচালক জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে টেলিফোনে সময় নেন এবং একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। বৈঠকে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করি। কিন্তু আমাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তারা যে যুক্তি এবং তাদের যে পরিসংখ্যান হিসাব দেয় সেই পরিসংখ্যানে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তখন আমরা তাদের কাছে জানতে চাই তারা কবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের অর্থ পরিশোধ করবে। কিন্তু তারা কোনো উত্তর দেয়নি।’
আর জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যগুলো পুনরায় সমন্বয় করবে। সেজন্য আমরা আমাদের তথ্যগুলো পুনরায় সমন্বয় করে তাদের কাছে দিয়ে এসেছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো তথ্য আমাদের দেয়নি।’
তথ্য কেন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কিছু তথ্য যুক্ত করার বিষয় রয়েছে, সেটি আমরা করছি। তবে আমরা নিয়মিত জীবন বিমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
সমন্বয় সভায় জীবন বীমার ছিল প্রিমিয়াম বাড়ানোর দাবি
সমন্বয় সভায় আটকে থাকা অর্থের কোনো সমাধান না আসলেও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে প্রিমিয়াম বাড়ানোর দাবি জানায় জীবন বীমা করপোরেশন। এতে এক প্রকার ক্ষুব্ধ হন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির শুরুতে জীবন বীমা করপোরেশন প্রিমিয়াম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব তোলেনি। তারা আমাদের প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম ১ হাজার টাকায় রাজি হয়ে যায়। এখন চুক্তি চলমান থাকা অবস্থায় তারা বলছি তাদের ক্ষতি দেখা যাচ্ছে, এ জন্য তারা প্রিমিয়াম বাড়াতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা জানিয়ে দিয়েছি, চুক্তি শেষ হওয়ার আগে কোনো প্রিমিয়াম বাড়ানো হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবন বীমা করপোরেশনের ম্যানেজার মো. ভিখারুল আলম বলেন, ‘প্রিমিয়ামের বিষয়ে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা হবে। আর ক্ষতির বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ একজন কর্মী ১০০০ টাকা দিয়ে ৫ বছর পর্যন্ত দাবি পরিশোধের সুযোগ পায়। ৫ বছর পর প্রিমিয়াম প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে গেলেও আরও ৫ বছর তিনি দাবি পাওয়ার যোগ্য। সেই ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জীবন বীমা করপোরেশন এখন আসলে চুক্তি বাতিল করতে চাচ্ছে। যার কারণে এই প্রিমিয়ামের বিষয়টি সামনে আনছে।’
২০১৯ থেকে চলছে এই চুক্তি
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালে মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারের সুরক্ষা স্কিম নামে একটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। কিন্তু সে সময়কালে জীবন বীমা করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান এটি বিমা প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব করেন। যে প্রস্তাবে বোর্ড রাজি হলে ২০১৯ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে ৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কর্মী মারা গেলে ১০ লাখ টাকা, ছয় মাসের মধ্যে ফেরত আসলে ৫০ হাজার টাকা এবং অঙ্গহানির বিমা নির্ধারিত হয়। এরপর ২০২৩ সালে উভয় পক্ষ আবার চুক্তি নবায়ন করে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
৭ বছরে বিমাভুক্ত হয়েছে ৫৭ লাখ প্রবাসী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অর্থাৎ ৭ বছরে ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ জন প্রবাসী বিমার আওতাভুক্ত হয়েছে। যাদের পাঠানো অর্থ থেকে ৪৮৮ কোটি ৫২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪০ টাকার প্রিমিয়াম জীবন বীমাকে পরিশোধ করে কল্যাণ বোর্ড। যার বিপরীতে জীবন বীমা ৩০৬ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বোর্ডকে পরিশোধ করেছে।

টাকা পরিশোধ ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় দুই হাজার প্রবাসী ও তাদের পরিবার। এ জন্য জীবন বীমা করপোরেশনকে দায়ী করছে কল্যাণ বোর্ড।
বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ছয় মাসের মধ্যে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের জন্য এই বিমা সুবিধা বরাদ্দ রয়েছে। তবে জীবন বীমা করপোরেশন গত এপ্রিল মাস থেকে দাবি করা প্রায় ৬৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বিমা বকেয়া রেখেছে বলে অভিযোগ বোর্ডের। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ও তাদের পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যার দায়ভার দিনশেষে বোর্ডের ওপর পড়ছে।
এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জীবন বীমার কাছে প্রবাসীদের কিছু অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে। এই অর্থগুলো পেয়ে গেলে আমরা প্রবাসীদের বুঝিয়ে দেব।’
তবে জীবন বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড একদিকে প্রিমিয়ামের অর্থ বকেয়া রাখছে, অন্যদিকে তাদের নতুন এমআইএস সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি নেওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করছে। যার কারণে তাদের প্রবাসীর অর্থ পরিশোধে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) মোহাম্মদ আবু কাউসার জলিল বলেন, ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে আমাদের প্রায় ২২ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রিমিয়াম গত ৫ মাস ধরে বকেয়া পড়ে আছে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম তারা এই বকেয়া প্রিমিয়াম পরিশোধ করলে আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে আরও অর্থ যোগ করে দ্রুত ৩০ কোটি টাকার দাবি মিটিয়ে দেব, যা উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কমিয়ে আনবে। কিন্তু তারা এখনো সেটি পরিশোধ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া তারা তাদের নিজস্ব সফটওয়্যার এমআইএস ইন্টারফেসে তথ্য এন্ট্রি দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে। তারা বলছে আমরা যেন তাদের সফটওয়্যারে তথ্য ইনপুট দিই। কিন্তু এটি অযৌক্তিক ও নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে আমরা তাদের একটি চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তারা এখনো কোনো উত্তর দেয়নি।’
জীবন বীমা করপোরেশনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তাদেরও কিছু পেন্ডিং আছে, আমাদেরও কিছু পেন্ডিং আছে। এটি আমরা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করতে পারব বলে আশা করি।’
সফটওয়্যার জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান আসবে বলে আশা করি।’
সফটওয়্যার জটিলতায় ওয়েজ আর্নার্সকে জীবন বীমার চিঠি
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সফটওয়্যার জটিলতা কমাতে এবং জীবন বীমা করপোরেশনকে এর সঙ্গে যুক্ত না করার জন্য গত ২১ জুলাই বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে চিঠি দেয় জীবন বীমার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাঈদ কুতুব।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে পাওয়া দাবি পরিশোধের চিঠি মোতাবেক করপোরেশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে দাবি পরিশোধের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এরপর প্রবাসী কর্মীদের দাবি পরিশোধের তথ্য সম্বলিত অনুমোদিত তথ্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী কর্মীদের বিমাদাবি সংক্রান্ত একটি এমআইএস সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে এবং এই সফটওয়্যারে বিমা দাবি পরিশোধের তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার জন্য জীবন বীমা করপোরেশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এমআইএস সফটওয়্যারে কোনো ডেটা এন্ট্রি করার প্রয়োজন হলে সেটার দায়িত্ব জীবন বীমা করপোরেশনের ওপর বর্তায় না। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি না দেওয়ার কারণে বিমা দাবির অর্থ কর্মীদের প্রদান করা সম্ভব না হলে তার দায় জীবন বীমা করপোরেশন গ্রহণ করবে না।
চিঠির আগে হয় সমন্বয় সভা, মেলেনি সমাধান
প্রবাসীর বিমার জটিলতা যখন প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকে তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি গত ১ জুলাই জীবন বীমা করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই সভা থেকেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে উভয় পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়তই ফাইল পাঠাচ্ছি কিন্তু জীবন বীমা আমাদের অর্থ দিচ্ছে না। এর ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের বর্তমান মহাপরিচালক জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে টেলিফোনে সময় নেন এবং একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। বৈঠকে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করি। কিন্তু আমাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তারা যে যুক্তি এবং তাদের যে পরিসংখ্যান হিসাব দেয় সেই পরিসংখ্যানে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তখন আমরা তাদের কাছে জানতে চাই তারা কবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের অর্থ পরিশোধ করবে। কিন্তু তারা কোনো উত্তর দেয়নি।’
আর জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যগুলো পুনরায় সমন্বয় করবে। সেজন্য আমরা আমাদের তথ্যগুলো পুনরায় সমন্বয় করে তাদের কাছে দিয়ে এসেছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো তথ্য আমাদের দেয়নি।’
তথ্য কেন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কিছু তথ্য যুক্ত করার বিষয় রয়েছে, সেটি আমরা করছি। তবে আমরা নিয়মিত জীবন বিমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
সমন্বয় সভায় জীবন বীমার ছিল প্রিমিয়াম বাড়ানোর দাবি
সমন্বয় সভায় আটকে থাকা অর্থের কোনো সমাধান না আসলেও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে প্রিমিয়াম বাড়ানোর দাবি জানায় জীবন বীমা করপোরেশন। এতে এক প্রকার ক্ষুব্ধ হন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির শুরুতে জীবন বীমা করপোরেশন প্রিমিয়াম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব তোলেনি। তারা আমাদের প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম ১ হাজার টাকায় রাজি হয়ে যায়। এখন চুক্তি চলমান থাকা অবস্থায় তারা বলছি তাদের ক্ষতি দেখা যাচ্ছে, এ জন্য তারা প্রিমিয়াম বাড়াতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা জানিয়ে দিয়েছি, চুক্তি শেষ হওয়ার আগে কোনো প্রিমিয়াম বাড়ানো হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবন বীমা করপোরেশনের ম্যানেজার মো. ভিখারুল আলম বলেন, ‘প্রিমিয়ামের বিষয়ে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা হবে। আর ক্ষতির বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ একজন কর্মী ১০০০ টাকা দিয়ে ৫ বছর পর্যন্ত দাবি পরিশোধের সুযোগ পায়। ৫ বছর পর প্রিমিয়াম প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে গেলেও আরও ৫ বছর তিনি দাবি পাওয়ার যোগ্য। সেই ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জীবন বীমা করপোরেশন এখন আসলে চুক্তি বাতিল করতে চাচ্ছে। যার কারণে এই প্রিমিয়ামের বিষয়টি সামনে আনছে।’
২০১৯ থেকে চলছে এই চুক্তি
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালে মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারের সুরক্ষা স্কিম নামে একটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। কিন্তু সে সময়কালে জীবন বীমা করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান এটি বিমা প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব করেন। যে প্রস্তাবে বোর্ড রাজি হলে ২০১৯ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে ৫ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কর্মী মারা গেলে ১০ লাখ টাকা, ছয় মাসের মধ্যে ফেরত আসলে ৫০ হাজার টাকা এবং অঙ্গহানির বিমা নির্ধারিত হয়। এরপর ২০২৩ সালে উভয় পক্ষ আবার চুক্তি নবায়ন করে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
৭ বছরে বিমাভুক্ত হয়েছে ৫৭ লাখ প্রবাসী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অর্থাৎ ৭ বছরে ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ জন প্রবাসী বিমার আওতাভুক্ত হয়েছে। যাদের পাঠানো অর্থ থেকে ৪৮৮ কোটি ৫২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪০ টাকার প্রিমিয়াম জীবন বীমাকে পরিশোধ করে কল্যাণ বোর্ড। যার বিপরীতে জীবন বীমা ৩০৬ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বোর্ডকে পরিশোধ করেছে।
.png)

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে রাখা ব্যাগে প্রেসার কুকার আকৃতির বোমা পেয়েছে পুলিশ। পরে খবর দিলে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে নিরাপদ স্থানে সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
১৯ মিনিট আগে
হামের উপসর্গে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের কারও হাম শনাক্ত হয়নি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে ৯০০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে গেছে। স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও মাঝিসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে