
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯ নম্বর কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।
এ তথ্য নিশ্চিত করে তিতাসের ২৯ নম্বর কূপের প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, গত ২০ জুলাই কূপটির খনন শুরু হয়েছিল। ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। বর্তমানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।
বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ নম্বর কূপের খনন শেষ হয়েছে। এখন একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনটি কূপ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার আশা করছে বিজিএফসিএল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় ৩১ নম্বর কূপের খনন শুরু হয় গত ১৯ এপ্রিল। কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন শেষ হয়েছে। চলতি বছরেই কূপটির খনন শেষ করে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার আশা করছে বিজিএফসিএল।
গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, ‘তিতাসে আমরা এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করেছি। এর নিচে কী আছে, তা আমরা এখনও জানি না। দেশে জ্বালানি সংকট চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও গভীর স্তরে কী আছে, তা জানার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের সার্ভে অনুযায়ী, এখানে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে।’
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন তিনটি কূপের খনন শেষ হবে এবং জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। চাহিদার তুলনায় এই গ্যাস খুব বেশি নয়। তবে দেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কমানো সম্ভব হবে।’
বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে উৎপাদনে থাকা ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোর মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে। এ কারণে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তিতাসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাধীন অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও নতুন কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোও খনন করা হবে।
.png)
-40e58c.jpeg)





-4aac43-256x144.webp)