ইরান যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ইয়েমেনে তীব্র হুতি-সৌদি লড়াই
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে গত প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টে পরিণত হওয়া ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলার জবাবে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুতিরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করছি, আমরা যুদ্ধের শেষের দিকে রয়েছি।’ ইরান একটি চুক্তি চায় বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মেয়াদ সাত মাসে গড়ালেও এর সমাপ্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এর মধ্যেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনে। গত কয়েক দিনে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে পেরিম দ্বীপও রয়েছে। কৌশলগত এই অঞ্চলটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
বুধবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ইয়ানবু এবং দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব এসব হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
হুতিরা আরও দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৪৫০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা হুতিদের অবস্থানে সৌদি ও তাদের বাহিনীর বিমান হামলার কথা স্বীকার করলেও রিয়াদ সরাসরি এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
সৌদি আরব ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। কয়েক বছর ধরে সংঘাত অনেকটা স্তিমিত থাকলেও জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হামলা শুরু করার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি ছিল। তবে সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সকালে দাম কিছুটা কমে ১০৪ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠক করতে পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সম্ভাব্য ওই বৈঠকে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
.png)
-40e58c.jpeg)





