বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

তোফায়েল আহমেদ। সংগৃহীত ছবি

সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ৮৩ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পরিবারের সদস্যরা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র মেয়ে ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তোফায়েল আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ভিপি এবং ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি ছিলেন তিনি।

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর নেতৃত্বেই রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান) ছাত্রসমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭১ সালে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পান তিনি।

নিজ জেলা ভোলা থেকে তিনি নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলী ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর টানা ৩৩ মাসসহ বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

সম্পর্কিত