কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল চায় হেফাজত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ২৩
হেফাজতে ইসলামের লোগো। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক
হেফাজতে ইসলামের লোগো। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে এর সংশোধন দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নতুন আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুসলিমপ্রধান দেশে শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য হবে না।

হেফাজতের দাবি, এই বিল সংশোধন করতে হবে। সরকারের উচিত ছিল বিলটি সংসদে উত্থাপন করার আগে ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা। আমরা মনে করি, আল্লাহর কিতাব কুরআনের নিজস্ব আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে আইন বানানো শরিয়াহকে অবজ্ঞা করার শামিল।

হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে আমরা অস্বীকার করি না; কিন্তু মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা, ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের যথাযথ পরামর্শ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের বার্তা হলো আলেম-ওলামাকে উপেক্ষা না করে তাঁদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিরা আইন পড়েছেন কি না, এমন প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তাঁদের আপত্তির শরিয়াতগত ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করাই দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণ।

তাঁরা বলেন, আমরা মনে করি, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টন ব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে এই পাস হওয়া বিলের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো ধরনের অহেতুক বিরোধে না গিয়ে আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করুন। হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধান অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করুন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভা শেষে আইনটি সংশোধনের দাবিতে হেফাজত আমিরের পক্ষ থেকে আলেম ও ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মধুপুরের পীর আব্দুল হামিদ, হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান, সালাহউদ্দিন নানুপুরী, জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, আরশাদ রহমানী, আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মাহফুজুল হক, বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মহিউদ্দিন রাব্বানী, জুনায়েদ আল হাবিব, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মনির হোসাইন কাসেমী, সাখাওয়াত হোসাইন রাজি প্রমুখ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত