ভারতকে অন্য দেশের মতোই দেখা হচ্ছে, সম্পর্কে ভারসাম্য চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৫৫
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি

ভারতকে অন্য যেকোনো দেশের মতোই দেখা হচ্ছে এবং দেশটির সঙ্গে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ—এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৫ বছর ধরে একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা ও স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সম্পর্ককে নির্দিষ্ট কোনো বহুপাক্ষিক ফোরামের ওপর নির্ভর না করে মূলত দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপনার প্রশ্নটি সঠিক হয়নি। ভারত নিয়ে মুগ্ধতা থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সব সময় খালি ভারতের কথাই ভাবলে চলবে না। নিজের দেশের কথা ভাবুন। যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা বলব। কিন্তু সাইডলাইনে সবার সঙ্গে তো আর দেখা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের অনেক নিমন্ত্রণ থাকবে এবং অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।’

এ ছাড়া ব্রিফিংয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা হবে। সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত প্রটোকল এবং ভারতের সঙ্গে থাকা বিদ্যমান ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় সব পর্যায়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে।

এদিকে সরকারপ্রধানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্ভাব্য সফর নিয়ে তিনি জানান, বিস্তারিত কর্মসূচি পরবর্তীতে জানানো হবে। তবে সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ তারিখে তিনি নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ২৬ তারিখ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন সরকারপ্রধান। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এই ভাষণে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর রূপরেখা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটিয়ে বিএনপি সরকারে নির্বাচিত হয়ে এসেছে—এই প্রেক্ষাপটে তিনি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ কীভাবে শান্তি ও টেকসই উপায়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রভাব রাখতে পারে, তা তুলে ধরা হবে।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি—যেমন দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় অর্থনীতিতে সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ ভাষণে স্থান পাবে। জলবায়ু নেতৃত্ব, জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নের বৈশ্বিক দাবির বিষয়গুলোও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং এরপর ঢাকা ফিরে আসবেন।

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এজেন্ডা হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটকে ‘শীর্ষ অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতিসংঘে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়েও এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে। এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে অধিবেশনের সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যাতে রোহিঙ্গা সংকট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত