আইনজীবী আলিফ হত্যা

তৃতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি, চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ০৮
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ছবি: বাসস
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ছবি: বাসস

চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষ আরেক স্বাক্ষী হাজির করলে আদালত পরবর্তী তারিখ দেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন।

মামলার অন্যতম আসামি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন এবং রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্য সময় চেয়ে পৃথক দুটি দরখাস্ত করা হয়। শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন।

শুনানির সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এসময় আদালতের বাইরে অনেক ইসকন সদস্য ভিড় করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের পিতা এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন। দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা এখনও সম্পন্ন হয়নি। আজ তৃতীয় সাক্ষীকে জেরার জন্যও সময় চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বারবার সময়ের আবেদন করে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করার প্রবণতা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে চায়।

এর আগে গত ২০ জুলাই মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত আদালতে সাক্ষ্য দেন। ওই দিন সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং আদালত ২০ আগস্ট পরবর্তী জেরা সম্পন্ন করার দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার নথি ও পূর্ববর্তী আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর আদেশকে কেন্দ্র করে তার অনুসারীদের হাতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল ও গ্রহণ করা হয়।

এ বছরের ১৯ জানুয়ারি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে বিচারাধীন। মামলায় ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে এবং ১২ জন পলাতক রয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

তৃতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি, চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর