ইন্টারনেটে কপি-পেস্ট দক্ষতায় এগিয়ে ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ২১
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) লোগো। স্ট্রিম গ্রাফিক

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে ‘কপি-পেস্ট’ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এই প্রবণতা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রকল্পের জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে মোট ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবহারে বড় ব্যবধান রয়েছে। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন; তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো খুবই সীমিত—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারে ঢাকা শীর্ষে এবং পঞ্চগড় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের দিক থেকেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সরকারি চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলাবিষয়ক তথ্য দেখেছেন। তবে অনলাইনে কেনাকাটার হার এখনো সীমিত, যা মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি নিরাপত্তা সচেতনতায় কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে উচ্চমূল্য ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। জরিপ অনুযায়ী, ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বেশি দামের কারণে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান না।

সম্পর্কিত