শিগগিরই দেশে শুরু হচ্ছে লিভার প্রতিস্থাপন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টিভি
সংসদে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টিভি

চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশেই টেকসইভাবে লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রম চালু করা যাবে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের পঞ্চম দিনে বিধি-৭১-এর আওতায় বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মাহবুবা হাকিমের দেওয়া বিবৃতি ও রাশেদা বেগম হীরার গৃহীত নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মাহবুবা হাকিম তার বিবৃতিতে বলেন, ‘গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক বক্তব্যে বলেছিলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না, এমন রাষ্ট্র গড়তে চাই। তাঁর সেই অঙ্গীকারে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি মহাখালীতে অবস্থিত ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রম অতি দ্রুত চালু এবং হাসপাতালটিকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করতে ভবন-২ নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করছি।’

তিনি বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে লিভার প্রতিস্থাপন-সংশ্লিষ্ট পাঁচ ধরনের যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউটে চলে এসেছে। বাকি ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি আগামী মাসে আসবে। এগুলো ইনস্টলসহ প্রস্তুত করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। এখন প্রয়োজন গঠিত টিমের প্রয়োজনীয় বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।’

মাহবুবা হাকিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০১০ এবং ২০১৯ সালে সফল লিভার প্রতিস্থাপন করলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। একজন সাধারণ লিভার রোগীর শেষ ভরসা ভারত-সিঙ্গাপুর। সেখানে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে ন্যূনতম খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ, অতি দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মিত রূপ প্রতিষ্ঠা করা হোক।’

জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘বাংলাদেশে এ যাবৎকালে বিভিন্নভাবে বারডেম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে লিভার প্রতিস্থাপন করা হলেও স্থায়ীভাবে বা টেকসইভাবে লিভার প্রতিস্থাপন করার যে উদ্যোগ, অতীতে কেউই গ্রহণ করেন নাই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে স্থায়ী ও টেকসই লিভার ট্রান্সপ্লান্টের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই ৩৯ কোটি টাকা লিভার প্রতিস্থাপন-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় সম্পূর্ণ করেছি। এরই মধ্যে পাঁচ ধরনের যন্ত্রপাতি ইনস্টিটিউটে চলে এসেছে, বাকি আরও ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে চলে আসবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এগুলো ইনস্টলসহ তৈরি করতে আমাদের দুই মাস সময় লাগবে। এখন প্রয়োজনীয় লোকবলকে আমরা প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি ইনশাল্লাহ এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে আমরা টেকসইভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা বাংলাদেশেই করতে পারব।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত