আলফাডাঙ্গায় সালিশ ডেকে পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফরিদপুর

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২২: ১৩
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রফিক শেখের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে অনুষ্ঠিত শালিস-বৈঠক। সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রফিক শেখের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে অনুষ্ঠিত শালিস-বৈঠক। সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক পরিবারকে একঘরে বা সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার চর নওয়াপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা হলেন—ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রফিক শেখের তিন ছেলে তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ২৪ জুলাই গ্রামে শালিস-বৈঠক বসে। ওই দিন কোনো সমাধান না হওয়ায় ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শালিস অনুষ্ঠিত হয়। দুই দফার বৈঠকেই রফিক শেখের ছেলেরা নিজেদের পক্ষে কথা বলার জন্য গ্রামের বাইরে থেকে কয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে আসেন।

শালিস-বৈঠকে বহিরাগত লোক আনার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতুব্বররা ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে সমাজপতি আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৩১ জুলাই বৈঠক করা হয়। পরে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আবারও সভা ডেকে রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই রাতেই তাদের সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ওই সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, ‘শালিস-বৈঠকে আমরা গ্রামের বাইরে থেকে আমাদের আত্মীয়স্বজনদের এনেছিলাম। এই অপরাধে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। মাতুব্বররা আমাদের পরিবারের কারও সঙ্গে সমাজের লোকজনকে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। গ্রামের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের যাওয়া নিষেধ।’

মৃত আব্দুর রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম বলেন, ‘আমাদের সমাজের লোকজন একঘরে করে রেখেছে। আমরা কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারছি না। আমার ছেলেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালী আবুল সরকার বলেন, ‘গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস, অথচ তারা কাউকে না জানিয়ে ৩০-৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে এসেছে। তাই মহল্লার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো সামাজিক সম্পর্ক রাখা হবে না। তবে তারা পরে আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের গ্রামের মানুষকে ডেকে সবার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলেছি। কিন্তু তারা তা করেনি।’

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার বলেন, ‘দুই দফা জমি মাপার সময় আমি শালিসে ছিলাম। তবে পরে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’

আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, ‘বর্তমান যুগে এভাবে কাউকে একঘরে করা সম্পূর্ণ মানবাধিকারবিরোধী ও বেআইনি। বিষয়টি আমি শুনেছি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, ‘বিষয়টি বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার সুযোগ কারও নেই।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত