ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বাণিজ্য আলোচনা, পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে অন্যায্য বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে অন্যায্য বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সিএনএন

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ভেস্তে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা। ‘ব্যর্থ’ আলোচনা শেষে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দয়েছেন। কানাডার পক্ষ থেকে এই শুল্ককে বলা হচ্ছে ‘ডলার-ফর-ডলার’।

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে অন্যায্য দাবির অভিযোগ এনেছে। কানাডা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নিতে চায় অনেক বেশি, কিন্তু দিতে চায় কম। আর ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা এমন কিছু সুবিধা দাবি করেছে, যা কেবল কোনো মার্কিন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রেই মানায়।

কানাডা থেকে মোট যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র, তার ৫ দশমিক ৫ শতাংশের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুল্কের আওতায় থাকা এই আমদানিমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার।

এই শুল্ক কমানোর বিষয়েই আলোচনার টেবিলে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। কিন্তু স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন কার্নি। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি সরঞ্জাম, কাগজ, ইলেক্ট্রনিকসসহ আরও কিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের কথা বলেছেন তিনি।

শনিবার (স্থানীয় সময়) মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক। আর কানাডার শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব তার দেশের স্বার্থের জন্য ‘অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও অন্যায্য’। বিষয়টিকে শুল্ক যুদ্ধ হিসেবেই দেখছেন তিনি। কার্নি বলেন, ‘আপনার ওপর হামলা হলে সেটাকে যুদ্ধই বলা হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’

এদিকে স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘কানাডা আমাদের একটি অঙ্গরাজ্যের মতো দাবি করেছে। কিন্তু তারা তা নয়।’

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হওয়া উচিত। কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে তার ‘ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তবে কার্নি বলেন, শুরুতে আলোচনা ইতিবাচক থাকলেও শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা কানাডার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের জবাব দিতে ট্রাম্প প্রশাসনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে কানাডার সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই বলেও জানিয়েছে তারা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত