কলকাতায় হোটেলে আগুন

দুই ধর্মীয় রীতিতে দেবাশীষসহ পরিবারের ৪ জনকে শেষ বিদায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ০৪
শনিবার রাত ১০টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজার দেবাশীষের কুষ্টিয়ার ভাড়াবাসার সামনে পৌঁছালে মানুষ ভিড় করেন। স্ট্রিম ছবি
শনিবার রাত ১০টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজার দেবাশীষের কুষ্টিয়ার ভাড়াবাসার সামনে পৌঁছালে মানুষ ভিড় করেন। স্ট্রিম ছবি

দুই ধর্মের রীতি মেনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ২টার দিকে দেবাশীষ ও তাঁর শিশুছেলে স্বর্ণশীষের লাশ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়। আর নামাজে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পৌর কবরস্থানে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনকে দাফন করা হয়।

গত ১৮ আগস্ট রাতে ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন। এর মধ্যে দেবাশীষ ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের লাশ গতকাল শনিবার বিকেল কুষ্টিয়ায় আসে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চারজনের লাশ দেশে পৌঁছায়। আগেই কুষ্টিয়া থেকে দেবাশীষের সহকর্মী ও স্বজনেরা বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো নিয়ে তারা কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজার কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষের ভাড়াবাসায় পৌঁছায়। পরে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের লাশ থানাপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। এরপর পৃথক ধর্মীয় রীতিতে তাদের দাফন ও সৎকার করা হয়।

কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য ও দাফন পৃথক ধর্মীয় রীতিতে হয়েছে।

লাশ আসার পর দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দেবাশীষের উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। এখন আমরা একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছি।

দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। মা-বাবা, ভাই ও নানার জন্য দেবাশীষের ১০ বছরের মেয়ে মহিমা দত্তের কান্না উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে বারবার ছোট ভাইকে দেখতে চাইছিল।

কুষ্টিয়া সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশীদ জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মেয়ের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত